
শেষ হতে বাকি
4 দিন 3 ঘণ্টা 31 মিনিট 21 সেকেন্ড

অম্বুবাচী সনাতন হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক তিথি আচার। প্রতিবছর আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে সূর্য মিথুন রাশিতে প্রবেশ করলে ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী হন বলে হিন্দু শাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়। এই পবিত্র সময়কালকেই অম্বুবাচী বলা হয় এবং এই তিন দিন সমস্ত শুভ কাজ বন্ধ রেখে সংযম করে।
অম্বুবাচী প্রবৃত্তি: ২২ জুন ২০২৬ (সোমবার) রাত ৭:৩৮ মিনিটে
মূল নিষেধকাল: ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন (৩ দিন)
অম্বুবাচী নিবৃত্তি: ২৬ জুন ২০২৬ (শুক্রবার) রাত ১০:৫৭ মিনিটে
অম্বুবাচী সনাতন হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক তিথি আচার। বাংলা প্রবাদে রয়েছে — "কিসের বার কিসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী।" হিন্দু শাস্ত্র ও বেদে পৃথিবীকে ধরিত্রী মাতা বলা হয়েছে। প্রতিবছর আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে সূর্য মিথুন রাশিতে প্রবেশ করলে ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী হন বলে বিশ্বাস করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করেন, তার পরবর্তী সেই বারের সেই কালে অম্বুবাচী শুরু হয়। ২০২৬ সালে অম্বুবাচী প্রবৃত্তি অর্থাৎ শুরু হবে ২২ জুন, সোমবার রাত ৭:৩৮ মিনিটে এবং নিবৃত্তি অর্থাৎ সমাপ্তি হবে ২৬ জুন, শুক্রবার রাত ১০:৫৭ মিনিটে।
পূর্ণবয়স্কা ঋতুমতী নারী যেমন ঋতুকালের পর সন্তান ধারণে সক্ষম হন, তেমনি ধরিত্রী মাতাও অম্বুবাচীর পর শস্যশ্যামলা হয়ে ওঠেন। এই সময় থেকেই বর্ষার সূচনা হয় এবং পৃথিবী কৃষির জন্য প্রস্তুত হয়। এজন্য অম্বুবাচী একটি ধর্মীয় আচার হলেও এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন কৃষি পরম্পরাও। ওড়িশায় এই পার্বণকে 'রজ উৎসব' নামে পালন করা হয়। অসমের কামাখ্যা শক্তিপীঠে অম্বুবাচীকে কেন্দ্র করে বিশাল উৎসব অনুষ্ঠিত হয় — কামাখ্যা মন্দির ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন এই তিন দিন বন্ধ থাকে এবং ২৬ জুন ভোরে শুদ্ধিকরণ পূজার পর দর্শন শুরু হয়।
অম্বুবাচীর তিন দিন সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশেষ নিয়ম মেনে চলতে হয়। এই সময়ে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন, বীজবপন, জমিচাষ ও যেকোনো মাঙ্গলিক কার্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জমি বা বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ও এই সময়ে করতে নেই। ব্রতী, বিধবা ও দ্বিজগণের রান্না করা পাকদ্রব্য ভক্ষণ নিষেধ। মঠ-মন্দিরের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকে এবং সমস্ত দেবীর মূর্তি বা পট লাল কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়। অম্বুবাচীর মধ্যে সর্পভয় নিবারণের জন্য দুগ্ধপান আবশ্যক বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই তিন দিন আমিষ, মদ, পেঁয়াজ ও রসুন বর্জন করে সংযমী জীবনযাপন করতে হয়।
অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর চতুর্থ দিন থেকে সমস্ত মাঙ্গলিক কাজে আর কোনো বাধা থাকে না। শুদ্ধিকরণের পর দেবী মূর্তির আবরণ উন্মোচন করা হয় এবং বিশেষ পূজার মাধ্যমে স্বাভাবিক ধর্মীয় জীবনে ফেরা হয়। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ে অম্বুবাচী বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয় — এই সময়ে মন্ত্রজপ ও ধ্যানের ফল দশগুণ বৃদ্ধি পায় বলে শাস্ত্রীয় বিশ্বাস রয়েছে। লাল কাপড় ও লাল ফুল দান করলে মা কামাখ্যার বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলেও ভক্তরা বিশ্বাস করেন।