মহালয়া: ১০ই অক্টোবর ২০২৬ (২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩), শনিবার
মহাপঞ্চমী: ১৬ই অক্টোবর ২০২৬ (২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩), শুক্রবার
মহাষষ্ঠী: ১৭ই অক্টোবর ২০২৬ (৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩), শনিবার
মহাসপ্তমী: ১৮ই অক্টোবর ২০২৬ (১লা কার্তিক, ১৪৩৩), রবিবার
মহাষ্টমী: ১৯শে অক্টোবর ২০২৬ (২রা কার্তিক, ১৪৩৩), সোমবার
মহানবমী: ২০শে অক্টোবর ২০২৬ (৩রা কার্তিক, ১৪৩৩), মঙ্গলবার
বিজয়া দশমী: ২১শে অক্টোবর ২০২৬ (৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩), বুধবার
২০২৬ সালের শারদীয়া দুর্গোৎসবের সূচনা হয় ১০ অক্টোবর, শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে, যখন ভোরবেলা 'মহিষাসুরমর্দিনী' শ্রবণের মাধ্যমে মা দুর্গার আগমনী বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় এবং প্যান্ডেল সাজানো ও শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার কাজ জোরেশোরে শুরু হয়। তবে মূল পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার মহাপঞ্চমী থেকে। এই দিনেই কল্পারম্ভের মাধ্যমে দেবীর চক্ষুদান করা হয় এবং মণ্ডপে পুজোর প্রাথমিক আচার সম্পন্ন হয়, যা এ বছরের বিশেষত্ব কারণ তিথিগত কারণে পুজোটি পঞ্চমী থেকেই শুরু হচ্ছে।
এর পরের দিন ১৭ অক্টোবর, শনিবার মহাষষ্ঠী—এই দিনটিতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মা দুর্গার আবাহন ঘটে এবং বেলগাছের তলায় দেবীকে আহ্বান জানানো হয়, যা পুজোর প্রাণ প্রতিষ্ঠার মূল আচার। ঠিক তার পরদিন ১৮ অক্টোবর, রবিবার মহাসপ্তমী পালিত হয়, যখন ভোরবেলা নবপত্রিকা বা কলাবৌকে স্নান করিয়ে বিশেষ মণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই দিন থেকেই মণ্ডপে ভক্তদের ঢল নামে এবং ধাকের তালে তালে পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
দুর্গাপুজোর সবচেয়ে তীর্থস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিনটি হচ্ছে ১৯ অক্টোবর, সোমবার মহাষ্টমী। সকালে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং অনেক মণ্ডপে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। অষ্টমীর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো সন্ধিপুজো—যা অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিটব্যাপী চলে। এই মুহূর্তে দেবী চামুণ্ডা রূপে আবির্ভূতা হন এবং ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁর বিশেষ আরাধনা করা হয়; সেই সময় ধুনুচি নাচ ও ঢাকের বাদ্য উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছে যায়।
এরপর ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার মহানবমী পালিত হয়, যখন দেবীকে চূড়ান্ত ভোগ নিবেদন ও হোম-যজ্ঞ সম্পন্ন করা হয়। সবশেষে ২১ অক্টোবর, বুধবার আসে বিজয়া দশমী—বিদায় বেলার দিন। এই দিন সবার প্রথমে হয় মিষ্টিমুখ ও বরণপর্ব, তারপর শুরু হয় উন্মাদনার এক অনন্য রূপ সিঁদুর খেলা, যেখানে বিবাহিত মহিলারা মা দুর্গা ও একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। দিনের শেষে মায়ের প্রতিমা কাঁধে তুলে নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নদী বা জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের মধ্যদিয়েই শেষ হয় এই ছয় দিনের মহোৎসব, যা স্মরণ করিয়ে দেয়—শক্তি সদা জয়ী এবং অসত্যের উপর সত্যের জয় চিরন্তন।