
শুরু হতে বাকি
37 দিন 27 মিনিট 57 সেকেন্ড

গুরু পূর্ণিমা সনাতন হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র বৈদিক উৎসব, যা প্রতিবছর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়। এই দিনে শিষ্যরা তাদের গুরুর চরণে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করেন। হিন্দু শাস্ত্রে গুরুকে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে ।
গুরু পূর্ণিমা : ২৯ জুলাই ২০২৬ (বুধবার)
পূর্ণিমা তিথি শুরু: ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬:১৮
পূর্ণিমা তিথি শেষ: ২৯ জুলাই রাত ৮:০৫
গুরু পূর্ণিমা সনাতন হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র বৈদিক উৎসব। ব্রহ্মসূত্র, মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবত এবং ১৮টি পুরাণের রচয়িতা কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেইজন্য আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিকে স্মরণ করে পালিত হয় গুরুপূর্ণিমা বা ব্যাসপূর্ণিমা। মহর্ষি বেদব্যাস সনাতন ধর্মে আদিগুরু তথা জগৎগুরু হিসেবে পূজিত। তাঁর জন্মতিথিতেই গুরু-শিষ্য পরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের এই মহান উৎসব পালিত হয়।
হিন্দু সনাতন ধর্ম মতে এই তিথিতে পরমেশ্বর শিব দক্ষিণামূর্তি রূপ ধারণ করে ব্রহ্মার চারজন মানসপুত্রকে বেদের গুহ্য পরম জ্ঞান প্রদান করেছিলেন। দক্ষিণামূর্তি সকলের আদিগুরু, তাই শৈব সনাতন ধর্ম অনুযায়ী এই তিথিটি দেবাদিদেব শিবের প্রতি সমর্পিত। 'গুরু' শব্দটি 'গু' ও 'রু' এই দুটি সংস্কৃত শব্দ দ্বারা গঠিত — 'গু' মানে অন্ধকার বা অজ্ঞানতা এবং 'রু' মানে যিনি সেই অন্ধকারকে দূরীভূত করেন। অর্থাৎ গুরু হলেন সেই মহাপুরুষ যিনি জ্ঞানের আলোয় শিষ্যের জীবনের অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করেন।
গুরু পূর্ণিমার দিন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী নিম্নলিখিত আচার পালন করা হয় — ভোরে পবিত্র স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হয়। এরপর গুরু বা বেদব্যাসের পূজায় ধূপ, দীপ, ফুল, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। শিষ্যরা গুরু মন্ত্র উচ্চারণ করেন — "গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ, গুরুঃ সাক্ষাৎ পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।" গুরুর চরণে প্রণাম করে গুরুদক্ষিণা নিবেদন করা হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে গুরুর কাছে কখনও খালি হাতে যাওয়া উচিত নয় — নিজের ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু না কিছু গুরুদক্ষিণা নিবেদন করা উচিত।
গুরুকেই ভগবান বেদব্যাসের প্রতিনিধিরূপে গুরু পূর্ণিমার দিন পূজা করা হয়। গুরুস্বরূপকেই এদিন ভগবানস্বরূপ আরাধনা করাই শিষ্যের একমাত্র কর্তব্য। মন্দির ও আশ্রমে ব্যাস পূজা, ভজন-কীর্তন, শাস্ত্র পাঠ ও সৎসঙ্গের আয়োজন করা হয়। গুরু পূর্ণিমার দিন থেকে শুরু করে চার মাস পরিব্রাজক সাধুসন্তগণ কোনো বিশেষ স্থানে অবস্থান করে শিষ্যদের জ্ঞান দান করেন। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ে এই উৎসব মন্দিরে মন্দিরে বিশেষ পূজার্চনা ও ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয়।
সনাতন ধর্মে গুরু এবং দেবতা একই মর্যাদার অধিকারী — যেমন ভক্তি দেবতাদের জন্য প্রয়োজন, সেই একই ভক্তি গুরুর প্রাপ্য। কারণ সদগুরুর কৃপায় ঈশ্বর দর্শনও হতে পারে; গুরুকৃপা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। তাই হিন্দু শাস্ত্রে গুরু পূর্ণিমার তিথিকে বিশেষ পুণ্যদায়ক তিথি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে গুরুর আশীর্বাদে শিষ্যের জীবনে জ্ঞান, ভক্তি ও মোক্ষলাভের পথ উন্মুক্ত হয় বলে সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয়।