
শুরু হতে বাকি
7 দিন 4 ঘণ্টা 23 মিনিট 49 সেকেন্ড

জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রাকে ১০৮ কলস পবিত্র জলে মহাস্নান করানো হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী এই দিনটি জগন্নাথ দেবের জন্মতিথি এবং পুণ্যস্নান দর্শনে ভক্তের জন্মজন্মান্তরের পাপ বিনাশ হয়।
স্নানযাত্রা : ২৯ জুন ২০২৬ (সোমবার)
অনবাসর শুরু: ২৯ জুন ২০২৬ থেকে
রথযাত্রা : ১৬ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব, যা প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়। ২০২৬ সালে স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুন, সোমবার। স্কন্দপুরাণ অনুযায়ী, পুরীতে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নই প্রথম এই স্নানযাত্রার আয়োজন করেছিলেন। পুরাণ মতে স্বয়ং প্রভু জগন্নাথ মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে আদেশ দিয়েছিলেন, তাঁর আবির্ভাব তিথিতে যেন বাইরে মণ্ডপে এনে স্নান করানো হয়।
স্নানযাত্রার দিন সকালে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার বিগ্রহ মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বের করে বিশেষভাবে নির্মিত স্নানমণ্ডপে আনা হয়। পুরীতে জগন্নাথদেবের স্নানের জন্য রয়েছে "সোনাকুয়া" নামে এক বিশেষ কুয়া, যেখানে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি। এই কুয়া থেকে জল আনার সময় পুরোহিত ও সেবকগণ মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে নিঃশ্বাসের দ্বারাও সেই পবিত্র জল দূষিত না হয়। তারপর সেই জল ১০৮টি সোনার কলসে ভরে চন্দন, তুলসী, গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ ও ভেষজ উপাদান মিশিয়ে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবতাদের মহাস্নান করানো হয়। স্নান দর্শনের জন্য লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমবেত হন — বিশ্বাস করা হয় এই পুণ্যস্নান দর্শনে জন্মজন্মান্তরের পাপ বিনাশ হয়।
স্নানের পর সন্ধ্যাবেলা ভগবান জগন্নাথ ও বলরামকে গণেশের রূপে সাজানো হয়, যা "গজবেশ" নামে পরিচিত এবং দেবী সুভদ্রাকে পদ্মবেশে সজ্জিত করা হয়। স্নানযাত্রার পর প্রথাগত বিশ্বাস অনুসারে জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে রাজবৈদ্যের চিকিৎসাধীনে গোপনে একটি সংরক্ষিত কক্ষে রাখা হয়। জগন্নাথের এই অসুস্থতার পর্যায়টি "অনসর" নামে পরিচিত — এই সময় ভক্তেরা দেবতার সরাসরি দর্শন পান না এবং তাদের জন্য মূল মন্দিরে তিনটি পটচিত্র রাখা হয়। অনসর কাল প্রায় ১৫ দিন স্থায়ী হয়।
অনসর পর্ব শেষে দেবতারা নবযৌবন রূপে ভক্তদের দর্শন দেন, যা নবযৌবন দর্শন নামে পরিচিত। এরপর ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা তিনটি আলাদা রথে চড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে যাত্রা করেন। সাত দিন পর উল্টোরথে তাঁরা আবার মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। স্নানযাত্রা তাই রথযাত্রার পূর্ববর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার এবং জগন্নাথ সংস্কৃতিতে এর বিশেষ আধ্যাত্মিক মহিমা রয়েছে।