
শুরু হতে বাকি
74 দিন 22 মিনিট 57 সেকেন্ড

শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী সনাতন হিন্দুধর্মে পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব। পুরাণ অনুযায়ী তিনি বিষ্ণুর অষ্টম অবতার এবং ভগবদগীতার উদ্ভাবক। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।বাংলাদেশে এটি একটি সরকারি ছুটির দিন এবং দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি বিশেষ উৎসবের সময়।
জন্মাষ্টমী : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার)
নিশিতা পূজার শুভ মুহূর্ত: রাত ১১:৪৫ থেকে ১২:৩০
বৈষ্ণবমত / ISKCON : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার)
শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী সনাতন হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মধ্যরাতে রোহিণী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ২০২৬ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। বাংলাদেশে এটি সরকারি ছুটির দিন এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি আনন্দময় উৎসবের সময়। স্মার্তমতে ৪ সেপ্টেম্বর এবং বৈষ্ণবমতে ও ইসকন মতে ৫ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী পালিত হয়।
জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বী, বিশেষত বৈষ্ণবদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই উৎসব নানাভাবে উদযাপিত হয় — ভগবত পুরাণ অনুযায়ী রাসলীলা বা কৃষ্ণলীলার নৃত্যনাটক, মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তে ধর্মীয় গীত, উপবাস ও দহি হান্ডি প্রভৃতি। এই দিন ভক্তরা সারাদিন উপবাস করেন এবং মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের শুভ মুহূর্তে পূজা-অর্চনা ও কীর্তনের মাধ্যমে জন্মোৎসব পালন করেন।
জন্মাষ্টমীর দিন ভক্তরা ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে ব্রত সংকল্প নেন। মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহকে নতুন পোশাক ও ফুলের অলংকারে সাজানো হয়। শ্রীকৃষ্ণকে মাখন, দই, দুধ, ক্ষীর, চিনি ও মিষ্টি নিবেদন করা হয় — এগুলো শ্রীকৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয় খাবার। "ওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়" মহামন্ত্র জপ ও হরিনাম কীর্তন চলে সারারাত। মধ্যরাতে শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের দোলনা দোলানো হয় এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী অত্যন্ত ঘটা করে পালিত হয়। ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে জন্মাষ্টমীর রাতে বিশেষ শোভাযাত্রা বের হয়, যেখানে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের নানা লীলা ও চরিত্রের প্রতীকী সাজসজ্জা নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করেন। এই শোভাযাত্রা ১৯০২ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর সংঘটিত হত এবং ১৯৮৯ সালে পুনরায় শুরু হয়েছিল। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশালসহ সারা দেশের মন্দিরগুলোতে বিশেষ পূজা, কীর্তন ও আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়।
জন্মাষ্টমী ব্রত পালনে শ্রীকৃষ্ণের মনষ্কামনা পূর্ণ করার বিশ্বাস রয়েছে। যে দম্পতিরা সন্তান কামনা করেন, তাঁরাও এই দিন গোপালের পূজা করে থাকেন। পরের দিন রোহিণী নক্ষত্র ও অষ্টমী তিথি শেষ হলে ব্রতের পারণ করা হয় এবং নন্দোৎসব পালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।