
শুরু হতে বাকি
3 দিন 23 মিনিট 1 সেকেন্ড

নির্জলা একাদশী বছরের সবচেয়ে কঠিন ও পুণ্যময় একাদশী। "নির্জলা" মানে জলহীন এই দিন ভক্তরা সম্পূর্ণভাবে আহার ও জল পরিত্যাগ করে উপবাস করেন।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নির্জলা একাদশী পালন করলে বছরের ২৪টি একাদশীর সমান পুণ্য লাভ হয়। তবে অসুস্থ ব্যাক্তি চাইলে জল কিংবা ফল আহার করেও এই ব্রত করতে পারেন।
নির্জলা একাদশী: ২৫ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
পারণ : ২৬ জুন সকাল ৫:৪১ থেকে ৮:২৫ এর মধ্যে
একাদশী তিথি শুরু: ২৪ জুন রাত ৮:০৯
একাদশী তিথি শেষ: ২৫ জুন রাত ৯:১৪
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে নির্জলা একাদশী পালিত হয়। হিন্দুধর্মে এই একাদশীকে অত্যন্ত পবিত্র এবং সবচেয়ে কঠিন উপবাসগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে ভক্তরা সারাদিন জল ও আহার গ্রহণ না করে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করেন। ২০২৬ সালে উদয় তিথি অনুসারে নির্জলা একাদশী ব্রত পালিত হবে ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার।
এই ব্রতের পৌরাণিক ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের এই নির্জলা একাদশী ব্রত সম্পর্কে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে শ্রীভীমসেন-ব্যাসসংবাদে বর্ণিত হয়েছে। মহর্ষি ব্যাসদেব ভীমসেনকে বলেছিলেন — কলিযুগের মানুষের পক্ষে ধর্মাচরণ পালন করা অত্যন্ত কঠিন, তাই যদি উভয় পক্ষের একাদশীতে উপবাস করা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীতে অবশ্যই নির্জলা উপবাস করতে হবে। শ্রীভীমসেন সেদিন থেকে নির্জলা একাদশী পালন করতে থাকায় এই একাদশী "পাণ্ডবা নির্জলা" বা "ভীমসেনী একাদশী" নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে।
ভগবান বিষ্ণুর প্রতি গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে নির্জলা একাদশী পালন করা হয়। এই উপবাসের মাধ্যমে ভক্তরা শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি পাপ থেকে মুক্তি ও ঈশ্বরের কৃপা লাভ করেন। এই দিনে ভোরে শয্যা ত্যাগ করে স্নান সেরে শুচিশুদ্ধ হয়ে ভগবান বিষ্ণুর পূজায় বসতে হয়। বিষ্ণুর মূর্তি বা শালগ্রাম শিলাকে পঞ্চামৃত — দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি — দিয়ে অভিষেক করানো হয়। তারপর ফুল, ধূপ, দীপ ও আরতি দেওয়া হয়। ভক্তরা সারারাত জেগে বিষ্ণুর স্তব গান করেন বা তাঁর মূর্তিতে ধ্যান করেন।
নির্জলা একাদশী ব্রত ধনধান্য ও পুণ্যদায়িনী। যমদূতগণ এই ব্রত পালনকারীকে মৃত্যুর পরও স্পর্শ করতে পারে না এবং বিষ্ণুদূতগণ তাঁকে বিষ্ণুলোকে নিয়ে যান। একমাত্র নির্জলা একাদশী ছাড়া বছরের বাকি সমস্ত একাদশীতে জল পান করা যায়। পারণের দিন দ্বাদশী তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর চরণামৃত পান করে ব্রত ভঙ্গ করতে হয় — ২০২৬ সালে পারণের শুভ সময় নির্ধারিত হয়েছে ২৬ জুন সকাল ৫:৪১ থেকে ৮:২৫ পর্যন্ত।