সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মন্দিরটি বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সুন্দর একটি ধর্মীয় স্থাপনা। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই মন্দিরে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে শ্যামা পূজা উদযাপিত হয়, যা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাসের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই কেন্দ্রীয় মন্দিরটি শুধুমাত্র ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি এখানকার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক চেতনার এক মিলনস্থল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু মন্দির হিসেবে এটি পরিচিতি পেলেও, এর পরিধি ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত। এটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির নামে সমধিক পরিচিত।
🕰️ ইতিহাসের সূচনা ও সম্প্রীতির বার্তা এই মন্দিরের ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়, তবে এর তাৎপর্য গভীরে। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা ও দীপাবলি উৎসব উদযাপিত হয়, যা ছিল এই মন্দিরের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেছিলেন, "এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এবারই প্রথম দীপাবলি ও শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমি মনে করি, এটাই আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও বাক-স্বাধীনতা"। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু সবাই সমান। এখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকলেই যার যার ধর্ম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পালন করছে"।
🏛️ আধ্যাত্মিক স্থাপত্য ও পরিচালনা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই মন্দিরটি পরবর্তীতে একটি সুসংহত রূপ পায়। বর্তমানে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. উত্তম কুমার মজুমদার। নিয়মিত পূজা-অর্চনার পাশাপাশি এখানে কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা সভা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে থাকে। মন্দির চত্বরটি ক্যাম্পাসের এক প্রান্তে নীরব-নিভৃতে অবস্থিত, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের কোলাহল থেকে দূরে এসে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পান।
🎉 উৎসব ও আয়োজন প্রতি বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যায় এখানে শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শ্যামা পূজায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম আবারও সম্প্রীতির বাণী উচ্চারণ করে বলেন, "এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ঐক্য ও সহাবস্থান। আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস গড়তে চাই, যেখানে মানবতা, শ্রদ্ধা ও ঐক্যই হবে আমাদের মূল বন্ধন"। পূজা উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বালন ও প্রার্থনার মাধ্যমে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে।
🌊 খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির কেন্দ্রীয় ভ্রমণ নির্দেশিকা আপনি যদি কখনও খুলনা ভ্রমণ করেন, তাহলে এই মন্দিরটি আপনার তালিকায় রাখতেই পারেন। খুলনা শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে ময়ূর নদীর তীরে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান। ক্যাম্পাসের ভিতরে সহজেই মন্দিরটি খুঁজে পাওয়া যায়। এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরগুলোর মধ্যে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।





