সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম ভবানীপুর শক্তিপীঠ। সতী মাতার বাম পায়ের নূপুর এখানে পড়েছিল। দেবী 'অপর্ণা' ও ভৈরব 'বামন' রূপে পূজিত হন। করতোয়া নদীর তীরে চার একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই মন্দিরে শাঁখাপুকুর ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
দক্ষ রাজার যজ্ঞে সতী দেহত্যাগ করলে, শিবের প্রলয় নৃত্য থামাতে বিষ্ণু সতীর দেহ সুদর্শন চক্রে ছিন্ন করেন। দেহের বিভিন্ন অংশ ভারতীয় উপমহাদেশে পতিত হয় এবং সেগুলোই ৫১ শক্তিপীঠ নামে পরিচিত। ভবানীপুর শক্তিপীঠ বিশ্বাস করা হয় সতী মাতার বাম পায়ের নূপুর (পায়ের অলঙ্কার) এখানে পড়েছিল। এই পীঠের শক্তি 'অপর্ণা' এবং ভৈরব 'বামন' নামে পূজিত হন।
কিংবদন্তি ও লোকশ্রুতি মন্দিরটির সাথে জড়িত একটি বিখ্যাত কাহিনি হলো শাঁখাপুকুরের কিংবদন্তি। একদা এক শাঁখাওয়ালা জঙ্গলের ধারে এক পুকুরের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ছোট মেয়ে তার কাছে শাঁখা কিনে নাটোরের রানী ভবানীর কাছে থেকে টাকা নিতে বলে。শাঁখাওয়ালা নির্দিষ্ট স্থানে গেলে মেয়েটি আর ছিল না, কিন্তু জলে ভাঁজ করে হাত তুলে দেবী ভবানী জোড়া শাঁখা দেখান। সেই থেকেই "শাঁখাপুকুর" পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত, যেখানে ভক্তরা পূজার আগে স্নান করে।
মন্দির চত্বর ও স্থাপত্য চার একর (১২ বিঘা) জমির প্রাচীর ঘেরা এই চত্বরে রয়েছে:
একটি মূল মন্দির (কালী মূর্তি অধিষ্ঠিত, যদিও দেবী ভবানী এখানে আরাধিত হন)
চারটি শিব মন্দির
পাতাল ভৈরব শিব মন্দির
বেলবরণ তলা
গোপাল মন্দির
উৎসব ও আচার নবরাত্রি উৎসব এখানে বিশেষ জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়।
মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমী তে পশু বলি প্রথা প্রচলিত।
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা আরতি ও ভোগ নিবেদন করা হয়।
অবস্থান ও যাতায়াত বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে শেরপুর উপজেলায় করতোয়া নদীর তীরে এই মন্দির অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে বাসযোগে বগুড়া পৌঁছে সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে আসা যায়।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্রই নয়, রানি ভবানী ও নাটোর রাজবাড়ির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। এটি একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক – এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগম ঘটে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে বিরাট মেলা বসে, যা বগুড়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই মন্দিরটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং আন্তর্জাতিক তীর্থস্থান হিসেবে স্বীকৃত। দর্শনার্থীরা এখানে একাধারে প্রাচীন ইতিহাস, আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এবং নদীবিধৌত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।





