Sri Sri Kheturi Dham
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী গ্রামে অবস্থিত খেতুরী ধাম বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি তীর্থস্থান। বৈষ্ণব সাধক শ্রী শ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুর-এর স্মৃতিবিজড়িত এই ধামে প্রতি বছর কার্তিক মাসের পঞ্চম দিনে অনুষ্ঠিত হয় জমজমাট খেতুরী উৎসব।
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী খেতুরী ধাম বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি তীর্থস্থান, যা বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে গয়া, কাশী ও বৃন্দাবনের মতোই সমান মর্যাদার অধিকারী। এই ধামের ইতিহাস ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত রয়েছে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য ও তাঁর প্রিয় ভক্ত শ্রী শ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুরের সাথে। জনশ্রুতি আছে, চৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে এই অঞ্চলে এসেছিলেন নরোত্তম দাসকে আশীর্বাদ করতে, যিনি ছিলেন তৎকালীন গৌড় পরগনার রাজা কৃষ্ণানন্দ দত্তের পুত্র। রাজকীয় সুখ-সম্ভোগ ত্যাগ করে তিনি অল্প বয়সেই বৃন্দাবনে আত্মনিয়োগ করেন এবং বৈষ্ণব ধর্মের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হন। এই ধামেই তিনি সাধনা ও ভক্তির মাধ্যমে খেতুরী উৎসবের সূচনা করেন, এবং ধামের মূল আকর্ষণ হলো তাঁর সমাধি মন্দির। প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের পঞ্চম দিনে, অর্থাৎ দুর্গাপূজার নয় দিন পর, শুরু হয় তিন দিনব্যাপী জমজমাট খেতুরী উৎসব, যা ১৫৮১ সাল থেকে প্রায় ৪৫২ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পালিত হয়ে আসছে এবং এই উৎসব উপলক্ষে সারা বাংলাদেশ থেকে এবং ভারত, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার ইসকন সদস্যসহ হাজার হাজার ভক্ত প্রেমতলীতে সমবেত হন। কীর্তন, ভজন ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে ভক্তরা নরোত্তম দাস ঠাকুর ও চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হিন্দু মন্দিরগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই ধামটি মার্বেল পাথরে নির্মিত এবং এর স্থাপত্য নান্দনিকতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ইসকন এই ধামের সাথে গভীরভাবে জড়িত, এবং এখানে তারা 'নারোত্তম ইনস্টিটিউট অফ স্পিরিচুয়াল স্টাডিজ'-এর মতো উদ্যোগ পরিচালনা করে, যা ইসকন শিক্ষা পোর্টালের একটি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২০-২৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ধামে সড়কপথে সহজেই পৌঁছানো যায়, আর সত্যিকারের উৎসবের আমেজ পেতে চাইলে কার্তিক মাসের পঞ্চম দিনে এখানে আসা উত্তম, কারণ তখন পুরো এলাকা ভক্ত ও পর্যটকে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ধামের পরিচালনা নিয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ বিরোধের খবর পাওয়া গেছে, তবুও এটি প্রায় সাড়ে চারশো বছর ধরে বাংলার বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকা এক জীবন্ত ইতিহাস, যা ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার পুণ্যভূমি হয়ে প্রতিবছর হাজারো প্রাণকে আপন করে নেয় নিজের বুকে।
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।