
গ্যালারি





সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সুগন্ধা শক্তিপীঠ ৫১ সতীপীঠের একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও শ্রদ্ধার তীর্থ। দেবী সুনন্দা হিসেবে পূজিতা শক্তি ও ভৈরব ত্র্যায়ম্বকেশ্বর এখানে ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। বরিশালের কাছে সুনন্দা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই মন্দিরটি তার পাথরের নির্মাণশৈলী এবং নদীর জলে প্রতিফলিত সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
🕉️ ঐতিহাসিক পটভূমি ও পৌরাণিক কাহিনী (দক্ষযজ্ঞের কাহিনী):
সতী ছিলেন রাজা দক্ষের কন্যা এবং ভগবান শিবের প্রথম পত্নী। একদিন রাজা দক্ষ একটি বিরাট যজ্ঞের আয়োজন করলেন, কিন্তু তিনি তাঁর জামাতা শিবকে অপমান করে তাঁদের আমন্ত্রণ জানালেন না। স্বামীর অপমানে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে সতী দেবী সেই যজ্ঞের অগ্নিতে নিজেকে উৎসর্গ করলেন। শোকে এবং ক্রোধে শিব দেবী সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয়ঙ্করী তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলেন।
এই তাণ্ডব থেকে সমগ্র সৃষ্টিকে বাঁচাতে ভগবান বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত করলেন। যেখানে যেখানে দেবীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পতিত হল, সেগুলি সতীপীঠ নামে পরিচিতি পেল। বিশ্বাস করা হয়, শিকারপুরে, সুনন্দা নদীর তীরে, দেবী সতীর নাকের ডগা (নাসিকা) পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই এই স্থানটি দেবীর ‘সুগন্ধা’ রূপে পরিচিত।
🙏 মন্দিরের দেব-দেবী ও আরাধ্য শক্তি:
আদ্যাশক্তি (মা): ‘সুনন্দা’ নামে পূজিতা হন। পৌরাণিক মতে, দেবী সুনন্দা ‘রূপ ও গন্ধের দেবী’, যিনি শান্তি, সৌন্দর্য এবং শুভতার প্রতীক। যিনি সত্য ও ভক্তির গন্ধে তাঁর ভক্তের জীবনকে সমৃদ্ধ করেন।
ভৈরব (শিব): ‘ত্র্যায়ম্বকেশ্বর’ বা ‘ত্রম্বকেশ্বর’ নামে পূজিত হন। ভৈরব এই পীঠের রক্ষক ও দেবীর সহচর।
🏛️ স্থাপত্য ও নান্দনিকতা:
মন্দিরটির পুরো কাঠামো পাথর দিয়ে নির্মিত, এবং এর দেওয়ালে দেব-দেবীর অপরূপ ভাস্কর্য খোদিত আছে। মন্দিরের নির্মাণশৈলী দেখে মনে হয় এটি অতি প্রাচীন কালে গড়ে উঠেছিল। সাদা পাথরের মন্দিরের প্রতিফলন সুনন্দা নদীর জলে পড়ে যা দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নেয়। মন্দির চত্বরটি ছোট পরিসরের হলেও এর আধ্যাত্মিক আবহ এটিকে একটি জাগ্রত পীঠে পরিণত করেছে।
🎉 উৎসব ও অনুষ্ঠান:
মন্দিরে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবটি হল ‘শিবচতুর্দশী’ (ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষে), যা মার্চ মাসে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। এ সময় হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে মন্দির চত্বর মুখরিত হয়। এছাড়াও, শারদীয় নবরাত্রি ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আরতি, পূজা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। পূণ্যার্থীদের জন্য রয়েছে পবিত্র নদীতে স্নানের বিশেষ ব্যবস্থা।
🚩 কীভাবে যাবেন ও দর্শনার্থীদের তথ্য:
🌊 পৌঁছানো: শিকারপুর গ্রামটি বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। বরিশাল সিটি থেকে বাস, সিএনজি অটোরিক্সা বা রিক্সাযোগে সোজা শিকারপুর চলে আসতে পারবেন।
✈️ আন্তর্জাতিক পান্থপথিকের জন্য: বরিশাল শহরে একটি বিমানবন্দর রয়েছে এবং নিকটতম রেলস্টেশন হলো ঝালকাঠি রেলওয়ে স্টেশন। সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে মন্দিরে আসা যায়।
🕰️ সময়সূচি: মন্দিরটি প্রতিদিন সকাল ৬:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
⚠️ সম্প্রতি খবর: গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, ভক্ত ও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, মন্দিরের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
💬 শেষকথা:
শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্যই নয়, যে কেউ ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটাতে চান, তার জন্যও এটি এক অপূর্ব গন্তব্য। পাথর-কাটা দেবমূর্তির কারুকাজ দেখে আপনার মনে হবে যেন ইতিহাস যেন নীরবে সাড়া দিচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা বরিশালের এই প্রাচীন পীঠস্থানটি একবার দর্শন করলে আপনার হৃদয় আরাম ও আধ্যাত্মিকতায় ভরে উঠবে।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।