
গ্যালারি


সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সিলেটের মির্জাজাঙ্গাল রোডে অবস্থিত নিম্বার্ক আশ্রম। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের ৫৫তম আচার্য শ্রীশ্রী সন্তদাস কাঠিয়াবাবা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। আশ্রমটির গায়ে রয়েছে পাঁচটি রুপালি গম্বুজ আর সূক্ষ্ম কারুকার্য।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
🙏 উপাস্য দেবতা ও ভক্তি আন্দোলন নিম্বার্ক আশ্রমের মূল আরাধ্য দেবতা হলেন যুগলকিশোর শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণ। এখানে পূজিত হন রাধা-মাধবের বিগ্রহ। নিম্বার্ক সম্প্রদায় ‘দ্বৈতাদ্বৈত’ তত্ত্বের অনুসারী, অর্থাৎ ভগবান ও জগৎ পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অভিন্ন। এই আশ্রম সিলেটের আধ্যাত্মিক চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের ভক্ত ও অনুসারীরা এখানে নিয়মিত আসেন।
🏛️ স্থাপত্য নকশা মূল মন্দিরটির দেয়ালগুলোতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য। পাঁচটি বিশাল আকৃতির টিনের তৈরি গম্বুজের নিচে দাঁড়িয়ে আছে মূল প্রার্থনা কক্ষ। আশ্রমের সামনের দেয়ালের নকশাটি এক জটিল বুনোট তৈরি করেছে। এই দেয়ালে একাধিক খিলান আকৃতির জায়গায় বসানো হয়েছে সুসজ্জিত ঘড়ি, যা পুরো কাঠামোতে একটি পরিপাট্য অনুভূতি যোগ করেছে। আলাদা নাটমন্দির ও বিশ্রামাগার রয়েছে ভক্ত-দর্শনার্থীদের জন্য। মূল মন্দিরের সামনেই আছে ৩৬ ফুট উচ্চতার একটি ‘স্টিল ফ্ল্যাগ লাইটিং মাস্তুল’।
📜 ইতিহাসের সাক্ষী ইতিহাসের করুণ আরেক দিক জড়িয়ে আছে এই আশ্রমের সঙ্গে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী নিম্বার্ক আশ্রমে হামলা চালিয়ে রাসবিহারী ধর, সরতি ধর, নরেন্দ্র ধর ও পাচু বাবুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আশ্রমের প্রাঙ্গণেই একটি ‘স্মৃতিস্তম্ভ (City Corp Memorial)’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রতি বছর শহীদ দিবস ও বিজয় দিবসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এটি স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের এই মর্মন্তদ দিকটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মাহুতি দেওয়া বীরদের অমর স্মৃতি বহন করে চলে。
🌸 ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠান নিম্বার্ক আশ্রম সারা বছর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুখর থাকে। সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ যে উৎসবগুলো পালিত হয়, সেগুলো হলো:
জন্মাষ্টমী (শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব)
নিম্বার্ক জয়ন্তী
চন্দন যাত্রা
রথযাত্রা ও দোলযাত্রা মহোৎসব
মন্দিরটি নিয়মিত শ্রীমদ্ভাগবত কীর্তন ও পাঠ এবং ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করে। এই সকল অনুষ্ঠান ভক্ত ও সাধকদের জন্য এক মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়।
🏡 আধুনিক ব্যবস্থাপনা বর্তমানে আশ্রমটি পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা করছেন নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের ৫৭তম আচার্য ব্রজবিদেহী শ্রীমহন্ত অনন্ত শ্রীবিভূষিত শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী রাসবিহারীদাস কাঠিয়াবাবা মহারাজ এবং আশ্রমের নিজস্ব পরিচালনা কমিটি। দর্শনার্থীরা আশ্রমের প্রার্থনাকক্ষের নিয়মিত সময়সূচী, বিশেষ উৎসবের তারিখ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা সম্পর্কে আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
প্রায় এক শতাব্দী আগে স্থাপিত এই আশ্রম আজও ভক্তির তীর্থে পরিণত হয়েছে। আপনি যদি ইতিহাস, স্থাপত্য আর অবিনশ্বর আধ্যাত্মিকতার সন্ধানী হন, তাহলে এই নিম্বার্ক আশ্রম আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। মা সন্তদাস কাঠিয়াবাবার আশীর্বাদ পেতে এখনই আপনার সিলেট সফরের পরিকল্পনা করুন। 🙏💖
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।



