
গ্যালারি




সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সুরমার তীরে এক টুকরো দক্ষিণেশ্বর 💖🕍 সিলেটের চালিবন্দরে নবনির্মিত শ্রীশ্রী মহাশ্মশান কালী মন্দির। স্থাপত্যে কলকাতার দক্ষিণেশ্বরের ধ্রুপদী ছোঁয়া আর সুরমার শান্ত আবহ—সব মিলিয়ে ভক্তি আর শিল্পের এক অনন্য মেলবন্ধন। 🙏🌿🏛️
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
লাল-সাদার মায়াবী কারুকাজে ঘেরা এই মন্দিরটি যেন আমাদের সিলেটের ঐতিহ্যে এক নতুন অলঙ্কার। ভক্তি যেখানে শিল্পের হাত ধরেছে, সেখানেই জেগে উঠেছে এই পরম বিস্ময়। ✨🌸🎨 সুরমা নদীর তীরে গড়ে ওঠা চালিবন্দর মহাশশ্বশান সিলেটের সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান দাহকেন্দ্র। ভারতের দক্ষিণেশ্বর আদলে নির্মিত নবনির্মিত কালী মন্দির এখানকার আধ্যাত্মিক আবহকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। ভক্তরা এখানে আসেন শেষকৃত্যের আয়োজনে, আবার কেউ কেউ মায়ের আশীর্বাদ পেতে। দীপাবলি ও চড়ক পূজায় এই স্থান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, হাজারো প্রদীপের আলোয় সিক্ত হয় পুরো চত্বর। শ্রীশ্রী মহাশ্মশান কালী মন্দির সিলেটের বুকে এক টুকরো দক্ষিণেশ্বর, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার মিলনস্থল।
সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত শ্রীশ্রী মহাশ্মশান কালী মন্দির বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক অতি পবিত্র ও ঐতিহাসিক তীর্থস্থান। আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ফলে এটি আজ আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে, বহু শতাব্দী আগে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুরমা নদীর তীরে এই স্থানটিকে শেষকৃত্য সম্পাদনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে এটি একটি সাধারণ শ্মশান হলেও কালক্রমে এখানে গড়ে ওঠে কালী মায়ের একটি ছোট মন্দির। সে সময় শুধু সিলেটের স্থানীয় বাসিন্দাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা মায়ের আশীর্বাদ পেতে এখানে সমবেত হতেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে চালিবন্দর মহাশশ্মানের আধুনিকায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের প্রথম ধাপে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কালী মন্দির নির্মাণ, পাঁচটি নতুন দাহচুলা স্থাপন, পুকুর সংরক্ষণে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, একটি প্রশস্ত নাটমন্দির ও দর্শনার্থীদের জন্য অপেক্ষাগৃহ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
এই সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের সবচেয়ে দর্শনীয় দিক হলো মন্দিরটির স্থাপত্য। পুরনো ছোট মন্দিরটি ভেঙে তার জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে ভারতের কলকাতার বিখ্যাত দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির আদলে এক অপূর্ব নবনির্মিত মন্দির। লাল ও সাদা রঙের মায়াবী কারুকাজে মোড়া এই মন্দিরটি দূর থেকেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ৪.৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত পাঁচতলা ছাত্রী হোস্টেলটি মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মন্দিরের গা ঘেঁষে বয়ে চলা সুরমা নদীর নির্মল বাতাস ও প্রশান্ত পরিবেশ মনের অজান্তেই ভক্ত-দর্শনার্থীদের আধ্যাত্মিকতায় মগ্ন করে তোলে।
চালিবন্দর মহাশশ্বশানে সারা বছর ধরে নানা ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠান পালিত হয়। এর মধ্যে দীপাবলি ও চড়ক পূজা সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত দীপাবলি উৎসবে সন্ধ্যার পর মন্দির চত্বর ও শ্মশানঘাটে হাজার হাজার মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। স্বর্গীয় আত্মীয়-স্বজনকে স্মরণ করে ভক্তরা মা কালীর আরাধনায় মাতেন। চৈত্র সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত চড়ক পূজা বা শিবের গাজন উৎসব এখানকার আরেকটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এই সময় বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চালিবন্দর এলাকাজুড়ে বসে গ্রামীণ মেলা, যা সনাতন বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
২০২৬ সালের এপ্রিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ‘শ্মশান পরিচালনা কমিটির সাথে মতবিনিময়’ করে আধুনিকায়নের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেন। যা ইঙ্গিত করে যে, এই পবিত্র স্থানটির উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিক। বর্তমানে মন্দির ও শ্মশান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘চালিবন্দর শ্মশান সংস্কার সমিতি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে।
সিলেটের চালিবন্দর মহাশশ্বশান শুধু একটি দাহকেন্দ্র বা মন্দির নয়; এটি একইসঙ্গে ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আধুনিকায়নের মিলনস্থল। যেখানে সনাতন ধর্মের প্রাচীন আচার আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সাথে মিলেমিশে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করেছে। সিলেট সফরে এলে এই মন্দির দর্শন আপনার স্মৃতিতে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নেবে।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।



