
গ্যালারি





সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ আন্দোলনের মূল তীর্থস্থান। ১৯২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত এই আশ্রমটি মানবপ্রেম, স্বনির্ভরতা ও সৎসঙ্গের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে আজও সক্রিয়। এখানে রয়েছে ঠাকুরের জন্মস্থান ও স্মৃতিমন্দির।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র: সৎসঙ্গ দর্শনের রূপকার
শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র (১৮৮৮-১৯৬৯) কেবল একজন ধর্মগুরু ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে একজন দার্শনিক, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, সমাজসংস্কারক ও ‘সৎসঙ্গ’ নামে এক বিশাল জনকল্যাণমূলক আন্দোলনের প্রবক্তা। তাঁর দর্শনের মূলকথা ছিল ‘অন্যে বাঁচায় নিজে থাকে’ – পরের মঙ্গলে নিয়োজিত থেকেই নিজের প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব। ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি হেমায়েতপুর গ্রামের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর মা মনোমোহিনী দেবীর কাছ থেকেই গভীর ভক্তির সূচনা হয়।
হেমায়েতপুর: সৎসঙ্গ আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র
পাবনার পদ্মা নদীর বুকে অবস্থিত হেমায়েতপুর গ্রামেই ১৯২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সৎসঙ্গ নিবন্ধিত হয়। এই স্থানটি শুধু আধ্যাত্মিকতার জন্যই নয়, এই জায়গাটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত। এখানে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ——এই চারটি স্তম্ভকে ধারণ করে গড়ে ওঠে এক অনন্য মানবিক সমাজ ব্যবস্থা।
স্মৃতি মন্দির ও স্থাপত্য: সময়ের সাক্ষী
মূল আশ্রম চত্বরে দেখা মেলে ঠাকুরের পিতা-মাতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত সুসংরক্ষিত এক ক্ষুদ্র মন্দিরের। এই স্থাপনাটি তার গম্বুজবিশিষ্ট ও ধনুক বাঁকানো কার্নিশের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়। মন্দির চত্বরের মূল আকর্ষণ ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবক্ষ মূর্তি ও ব্যবহার করা জিনিসপত্র। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্মৃতিমন্দিরের পাশেই, বর্ধিত পরিকল্পনায় নবনির্মিত আরেকটি মন্দির ভক্তদের ভিড় সামলাতে নির্মিত। এই স্থাপত্য কখনও সাদামাটা আবার কখনও নান্দনিক কারুকার্যে সমৃদ্ধ।
পুণ্যস্নান ও আবির্ভাব উৎসব: ভক্তির মহামিলন
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ‘আবির্ভাব উৎসব’ পালিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত হয় পদ্মার সম্বলপুর ঘাটে পুণ্যস্নান (গঙ্গাস্নান)। সন্ন্যাসীরা বিশ্বাস করেন, ১৯৪৭ সালে ঠাকুর ভারত চলে যাওয়ার আগে এখানেই স্নান করতেন। এই ক্যানেলে এখন জলজ আগাছা পরিপূর্ণ, তবুও ভক্তেরা এটিকে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচনা করেন। ২০২৬ সালে পাবনা সিটি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৫২তম এই পুণ্যস্নান উৎসব। দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক ভক্ত অংশ নেন।
সেবার হস্ত: চিকিৎসালয়, বিদ্যালয় ও সমাজসেবা
ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র শুধু প্রার্থনা শেখাননি, তিনি হাতে-কলমে সেবার মডেল গড়ে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সৎসঙ্গ আশ্রমের আওতায় পরিচালিত হয় একটি স্কুল, একটি জনহিতকর হাসপাতাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এবং একটি প্রকাশনা সংস্থা। এখানে পাবনার পাশাপাশি বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামেও এই সংগঠনের শাখা রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভ্রমণ নির্দেশনা
বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যাতায়াতের জন্য পাবনা শহর হল কেন্দ্রীয় পয়েন্ট।
ঢাকা থেকে কীভাবে যাবেন:
বাস: রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস পাবনা যাত্রা করে (যেমন: ‘পাবনা এক্সপ্রেস’)।
ট্রেন: কমলাপুর থেকে ‘ঈশ্বরদী এক্সপ্রেস’ ও ‘শিল্পী এক্সপ্রেস’ ঈশ্বরদী অথবা পাবনা স্টেশনে নামে। সেখান থেকে বাসে হেমায়েতপুর।
পাবনা শহর থেকে:
পাবনা শহরের কালাচান্দপুর বাসস্টেশন বা নিউমার্কেট এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে হেমায়েতপুর যেতে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। সোজা ‘ঠাকুরের আশ্রম’ বা ‘হেমায়েতপুর সৎসঙ্গ বিহার’ চিনিয়ে দিলেই চলে যাবেন।
নতুন করে আরও যা যা দেখবেন:
১. শ্রী অনুকূল চন্দ্রের প্রতিকৃতি ও ব্যবহার্য জিনিস: যদিও তাঁর মূল দেহটি ভারতের দেওঘরে, হেমায়েতপুর আশ্রমের সংগ্রহশালায় তাঁর ব্যবহৃত আসবাবপত্র, চিঠি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জাম সংরক্ষিত আছে। ২. নির্মাণাধীন নতুন আখড়া: আশ্রম চত্বরে একটি দৃষ্টিনন্দন নতুন তোরণ ও কিছু নতুন ভবন নির্মাণাধীন। আপনি চলতি অগ্রগতি দেখতে পারবেন। ৩. পদ্মা নদী: হেমায়েতপুর সেতু দিয়ে নেমে সরাসরি পদ্মার চরে হাঁটতে পারেন। শরৎ-হেমন্তকালে এই নদীর সৌন্দর্য ভিন্নমাত্রা পায়।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।