সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
অষ্টাদশ শতাব্দীর নিদর্শন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত।পাশাপাশি অবস্থিত দুটি হিন্দু মন্দির নিয়ে গঠিত, যা "জোড়া মঠ" নামে পরিচিত। পশ্চিমের মন্দিরটি কালী ও পূর্বেরটি শিব দেবতাকে উত্সর্গীকৃত।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় অবস্থিত সোনারং জোড়া মঠ (Sonarang Twin Temples) অষ্টাদশ শতাব্দীর একটি অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। জনশ্রুতিতে এটি 'জোড়া মঠ' নামে পরিচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি পাশাপাশি দাঁড়ানো দুটি হিন্দু মন্দির। এগুলি একটি একটিমাত্র উঁচু ভিত্তিমঞ্চের (মেসনরি প্ল্যাটফর্ম) ওপর নির্মিত, যার তিন দিকেই রয়েছে প্রতিরক্ষামূলক পরিখা।
📜 ইতিহাস ও নির্মাণ (History and Construction) দুটি মন্দিরই দুই ধাপে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরের গায়ে খোদাই করা প্রস্তর লিপি থেকে জানা যায়, এগুলি নির্মাণ করেছিলেন সোনারং এলাকার রূপচন্দ্র নামে এক হিন্দু ব্যক্তি। প্রথমে ১৮৪৩ সালে পশ্চিম দিকের বড় কালী মন্দিরটি নির্মিত হয় এবং পরে ১৮৮৬ সালে পূর্ব দিকের ছোট শিব মন্দিরটি যুক্ত করা হয়।
🏛️ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য (Architectural Features) পশ্চিম মন্দির (কালী মন্দির): এটি অপেক্ষাকৃত লম্বা, প্রায় ১৫ মিটার (approx. 49 ft) উঁচু। মূল বেদীটির উপর নিচু গম্বুজ, তার ওপরে অষ্টভুজাকৃতি শিখর (Sikhara) এবং শীর্ষে একটি ত্রিশূল স্থাপিত। এর স্থাপত্য নবরত্ন (Navaratna) ধারার, যা শিখরের চার কোণে থাকা চারটি ক্ষুদ্র শিখর এবং বারান্দার ওপর আরও চারটি মোট নয়টি শিখর দ্বারা চিহ্নিত।
পূর্ব মন্দির (শিব মন্দির): এটি আকারে ছোট এবং আরও নান্দনিক। এর বারান্দার ছাদ চৌচালা ভল্ট ও চার কোণে ছোট ছোট ভল্ট দিয়ে সজ্জিত। এই মন্দিরটিও নবরত্ন ধরনের হলেও এর শিখরের প্রতিটি খিলান-প্যাটার্নের ওপরে ফণা বিস্তৃত সাপের মাথার মতো কারুকাজ দেখা যায়, যা একে স্বতন্ত্রতা দিয়েছে।
🙏 বর্তমান অবস্থা (Current Condition) সোনারং জোড়া মঠ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (Department of Archaeology) কর্তৃক সংরক্ষিত একটি প্রাচীন নিদর্শন। এটি এখনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পর্যটকদের দর্শনার্থের জন্য উন্মুক্ত。
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।





