Sri Sri Burrakartar Samadhi Ashram
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবস্থিত প্রায় একশ বছরের পুরনো আশ্রম। ভক্তরা যাকে “বুড়াকর্তা” বলে ডাকেন, সেই সন্ন্যাসী রাধাকান্ত সোহং স্বামীজির সমাধিই এই আশ্রমের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ দিনব্যাপী মেলা ও কীর্তন অনুষ্ঠিত হয় যা সারাদেশের হাজারো ভক্তকে আকর্ষণ করে।
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মেঘনার মনোরম পরিবেশে অবস্থিত শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার সমাধি আশ্রম। প্রায় ৯৬ বছরের বেশি সময় আগে, ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে, রাধাকান্ত সোহং স্বামীজি নামের এক আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের সমাধি স্থান হিসেবে এই আশ্রমের পথচলা শুরু হয়। রাধাকান্ত সোহং স্বামীজি ভক্তদের কাছে ‘বুড়াকর্তা’ নামেই সমধিক পরিচিত। স্নেহ ও ভক্তির জায়গা থেকেই এই আশ্রমের নামকরণ হয় ‘বুড়াকর্তার সমাধি আশ্রম’। এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই সাধক পুরুষ। আশ্রম প্রাঙ্গণের মধ্যবর্তী আয়তক্ষেত্রাকার প্রাঙ্গণকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মূল সমাধি মন্দির ও অন্যান্য কক্ষ। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই আশ্রম আজ এই অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে জাগ্রত তীর্থ ও প্রাণের ঠিকানা।
🎉 তিরোধান দিবস ও মেলার ধূম: আশ্রম প্রাঙ্গণের সবচেয়ে জমজমাট আয়োজন হলো বুড়াকর্তার তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ১৪ দিনব্যাপী মেলা ও কীর্তন উৎসব। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে (বাংলা ফাল্গুন) আশ্রম চত্বরে বসে বিশাল মেলা। ২০২৫ সালের তথ্য মতে, এটি ৯৬তম মেলা ছিল। মেলা উপলক্ষে হরিনাম, পদাবলী, লীলা কীর্তন সহ নানান ভক্তিমূলক আয়োজন হয়। দেশের নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুরের সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ এ সময় উপস্থিত হন এই মেলায়। প্রায় পাঁচ শতাধিক স্টল বসে এই মেলায়। ২০২৪ সালের তথ্যানুযায়ী, মেলায় আনুমানিক ১৫ হাজার ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। ২০২৩ সালের তথ্য অনুসারে, মেলার উদ্বোধন করেন রামগতি উপজেলার তদানীন্তন নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া, মন্দিরের নিয়মিত পূজা-অর্চনার অংশ হিসেবে ভোগ বিরাজ অনুষ্ঠান নিয়মিত চলে, যেখানে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এই আয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকেন।
🗓️ পরিচালনা কমিটি: এত বড় আয়োজন ও সার্বক্ষণিক মন্দির পরিচালনার জন্য একটি সক্রিয় কমিটি রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯শে ডিসেম্বর এই আশ্রমের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। অপরুপ দাসকে সভাপতি ও প্রাণকৃষ্ণ দাসকে সম্পাদক করে এই কমিটি গঠিত হয়। এছাড়াও আশ্রমের বর্তমান সভাপতি উৎপল কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক নিখিল চন্দ্র দাস। পুরোহিত হিসেবে রয়েছেন প্রবীর চক্রবর্তী। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। মেলা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত সহযোগিতা করে থাকেন।
🚩 কিভাবে যাবেন ও ভ্রমণ তথ্য: ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে চেপে লক্ষ্মীপুর জেলায় এসে সেখান থেকে রামগতি行ী বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় করে এই আশ্রমে পৌঁছানো যায়। রামগতি উপজেলা সদর থেকে আশ্রমের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। আশ্রমের পাশেই অবস্থিত আলেক্সান্ডার মেঘনা বীচ পর্যটন কেন্দ্র। ভ্রমণের আদর্শ সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে মেলার সময় গেলে সত্যিই ভক্তির আসল রূপ দেখা যায়।
লক্ষ্মীপুরের বুড়াকর্তার সমাধি আশ্রম তাই ইতিহাস, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনমেলা। বাংলার সনাতন প্রাণের চিরচেনা অনুষঙ্গ কীর্তন আর মেলায় মুখরিত এই প্রাঙ্গণ একবার ঘুরে দেখলে মন ভরে যায় ভক্তির সুরে।
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।