সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সাভারের কাতলাপুর এলাকায় অবস্থিত ইসকন সাভার একটি অলৌকিক ও জাগ্রত তীর্থস্থান। গঙ্গার শাখা বংশী নদী থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে পাওয়া কষ্টিপাথরের বিষ্ণু বিগ্রহ এখানে বিরাজমান। বালিয়াটি জমিদারের স্বপ্নাদেশের ফলশ্রুতিতে ২০১৪ সালে নবনির্মিত মন্দিরটি ভক্তদের কাছে প্রশান্তি ও কৃষ্ণপ্রেম ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
সাভার উপজেলার কাতলাপুর এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী কানাইলাল জিউড় বিগ্রহ মন্দির, যা ইসকন সাভার নামেই ভক্তদের কাছে বেশি পরিচিত। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) পরিচালিত এই মন্দিরটি তার অলৌকিক ইতিহাস এবং মনোরম স্থাপত্যের জন্য সাভারের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক জাগ্রত ও প্রাণের তীর্থস্থান। ইতিহাস ও বিশ্বাসের মিলনস্থল এই মন্দিরটির উৎপত্তি প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৭৯৮ খ্রিষ্টাব্দে। এই অঞ্চলের বয়ে যাওয়া বংশী নদী (গঙ্গার একটি শাখা নদী) থেকেই মন্দিরের সূচনা হয়। এক গভীর রাতে নদীর বুক চিরে আবির্ভূত হয় এক অলৌকিক কষ্টিপাথরের বিষ্ণু বিগ্রহ। বিগ্রহটি পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলে ও বালিয়াটি জমিদার পরিবার তা আবিষ্কার করে এবং তৎক্ষণাৎ বিগ্রহটিকে গঙ্গা থেকে উদ্ধার করে। সেই রাতেই জমিদার স্বপ্নাদেশ পান এবং সেই স্বপ্নাদেশ থেকেই ‘কানাইলাল’ নামের উৎপত্তি ও এখানে একটি স্থায়ী মন্দির নির্মাণের নির্দেশনা লাভ করেন। ঠিক সেই সময় থেকেই এক গোটা তীর্থের সূচনা হয়। সেই পুরনো মন্দিরটি বর্তমানে সংস্কার করে ২০১৪ সালে একটি নতুন ও দৃষ্টিনন্দন মন্দির নির্মাণ করা হয়। বলা হয়, এই মন্দিরটি নির্মাণে দেশ-বিদেশের নানা তীর্থক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত পবিত্র মাটি ও জল ব্যবহার করা হয়েছে।
মন্দিরের ভেতরে দর্শনার্থীরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও ভগবান জগন্নাথের বিগ্রহ দর্শন করতে পারেন। মন্দির চত্বর নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যার প্রার্থনা, আরতি ও কীর্তনে মুখর থাকে। যা ভক্তদের মনে এক অপার প্রশান্তি জোগায়। সকালবেলার মঙ্গল আরতি ভক্তিদের নতুন দিনের শুরুতেই আধ্যাত্মিকতায় উদ্বুদ্ধ করে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় মন্দিরের আলোকসজ্জা ও আয়োজিত ভক্তিমূলক সভায় যোগ দিতে ভক্তদের ভিড় জমে। সাপ্তাহিক বিশেষ তিথিতে শ্রীমদ্ভাগবত কীর্তন ও ভক্তিমূলক আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। মন্দিরের বাৎসরিক উৎসবের মধ্যে নৃসিংহ চতুর্দশী, জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রা অন্যতম। এ সময় দূর-দূরান্তের হাজারও ভক্ত সমবেত হন এবং ভগবানের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। ইতিমধ্যে শ্রী শ্রী কানাইলাল জিউ মন্দির একটি মডেল মন্দির হিসেবে ইসকনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। নবনির্মাণাধীন মন্দিরটির কাজ প্রায় ৯০% সম্পন্ন হয়েছে বলে ২০২৪ সালে ইউটিউব সূত্রে জানা গিয়েছিল। বর্তমানে মন্দির চত্বর ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় কমপ্লেক্সে।
মন্দিরটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কাতলাপুর এলাকায় অবস্থিত। ঢাকা শহরের প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চলটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মাধ্যমে রাজধানীর সাথে যুক্ত। যেকোনো প্রকারের যানবাহনে ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সাভার আসা যায়। সাভার বাসস্ট্যান্ড বা সাভার বাজার এলাকা থেকে সহজেই স্থানীয় রিক্সা বা সিএনজি অটোরিকশাযোগে ‘কাতলাপুর ইসকন মন্দির’ বা ‘কানাইলাল মন্দির’ বলে দিলেই পৌঁছে যাওয়া যায়। সাভারের কাতলাপুরের এই প্রাচীন ও নবজাগ্রত তীর্থটি তার অলৌকিক ইতিহাসের গৌরবগাথা বয়ে চলেছে আজও। প্রতিদিন শত শত ভক্ত ও পর্যটক এখানে ছুটে আসেন বাবার অলৌকিক চরণ স্পর্শ করতে, মনে শান্তি খুঁজে নিতে এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে।
জয় শ্রী কৃষ্ণ। জয় শ্রী কানাইলাল জিউ। 🙏🕊️
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।









