
গ্যালারি






সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
হবিগঞ্জের বগলা বাজারে অবস্থিত শ্রীশ্রী নৃসিংহ মন্দির। ইসকনের এই শাখা মন্দিরটিতে রয়েছে শ্রীশ্রী রাধামাধব, শ্রীশ্রী জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানী ও ভগবান নৃসিংহদেবের বিগ্রহ। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য আর ভক্তিময় পরিবেশ মন্দিরটিকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
হবিগঞ্জের বগলা বাজারে অবস্থিত ইসকনের শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউ মন্দির শ্রীশ্রী রাধামাধব ও ভগবান নৃসিংহদেবের বিগ্রহের জন্য শ্রদ্ধেয়। ভক্তরা এখানে আসেন নৃসিংহ চতুর্দশী উপলক্ষে ভগবানের মহাভিষেক ও কীর্তনানন্দে মেতে উঠতে। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যে ঘেরা এই মন্দির সবার জন্য উন্মুক্ত—শুধু পূজার জন্যই নয়, বরং আত্মার ঠিকানা খুঁজতে আসা প্রতিটি মানুষের জন্যই। 🦁🌿✨
বগলা বাজারের সরু গলি পেরিয়ে যখন মন্দির চত্বরে পা রাখবেন, তখন প্রথমেই নজর কাড়বে উঁচু শিখর আর লাল-সাদা কারুকাজের গাঁথুনি। এটি কিন্তু সাধারণ কোনো স্থাপত্য নয়; যেন প্রাচীন কোনো পুরাণের পাতার চিত্র যেন রঙিন হয়ে উঠেছে এখানে। সবার আগে চোখে পড়ে শ্রীশ্রী রাধামাধবের বিগ্রহ—যেখানে মা রাধা আর কৃষ্ণ জোড়া বিগ্রহে ভক্তের মন কেড়ে নেন স্বপ্নের মতো মূর্তিতে। পাশেই শ্রীশ্রী জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানী—যাদের বিশাল চোখের দৃষ্টি যেন সবার দিকে চেয়ে থাকে। আর গভীর নিস্তব্ধতায়, এককোণে সিংহমুখী নৃসিংহদেবের বিগ্রহ—ভক্ত রক্ষার শপথ নেওয়া এক দেবতা, যিনি হিরণ্যকশিপুর বুক চিরে ভক্ত প্রহ্লাদকে অমর করে রেখেছেন।
সকালে ঘুম ভাঙে আরতির শঙ্খধ্বনিতে। মন্দিরের পুরোহিতেরা ভক্তি ও নিষ্ঠায় পূজা শুরু করলে মৃদঙ্গ আর করতালের তালে মুখর হয়ে ওঠে চত্বর। ভক্তরা এসে জড়ো হন—কেউ দূরের কোন গ্রাম থেকে রিকশার চাকা গুণে, কেউবা নগরের কোলাহল ছেড়ে। তাদের একটাই আশা: প্রবল এই নৃসিংহদেবের চরণ স্পর্শ করবেন। অনেকের বিশ্বাস, এখানে সত্যিকার প্রার্থনা করলে বিপদ যেন দূরে সরে যায়।
🪔 যে দিন বদলে যায় মন্দিরের রূপ 🪔
বছরের অন্য দিন মন্দিরের সৌন্দর্য যেমন অনন্য, তেমনই বৈশাখ মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে চলে আসে নৃসিংহ চতুর্দশীর মহোৎসব। এই বিশেষ দিনটি ভগবান নৃসিংহদেবের আবির্ভাব তিথি হিসেবে পালিত হয়। আগের রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। সারা মন্দির সেজে ওঠে রঙিন আলপনা আর ফুলের সাজে। ভক্তরা পরেন নতুন পোশাক, যেন এবার তাঁরা উপস্থিত হবেন এক মহামিলনে।
সকাল থেকে শুরু হয় কীর্তন — একের পর এক ভজন গাওয়া হয় মন্দির চত্বরে। হারমোনিয়াম আর মৃদঙ্গের তালে বেজে ওঠে 'হরে কৃষ্ণ' মন্ত্র। যখন 'মহাভিষেক' শুরু হয়, তখন যেন থমকে যায় সময়। ভক্তরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান দুধ, দই, মধু আর ঘি হাতে। পঞ্চামৃতের স্নানে ভগবান নৃসিংহদেবের বিগ্রহ যেন এক ঝলকে আরও দীপ্ত হয়ে ওঠে। ভক্তদের মুখে তখন শুধু একটি নাম—নৃসিংহ।
মন্দিরের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ এই সময় ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ভক্তির শক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। প্রহ্লাদের মতো দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে সব প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব"। এই কথা যেন সবার মনে গভীর রেখাপাত করে।
🌟 আপনার জন্যই এক টুকরো বৈকুন্ঠ 🌟
মন্দিরটি হবিগঞ্জ শহরের বগলা বাজারে অবস্থিত। শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে পথ ধরলেই পৌঁছে যাবেন এই শান্তির ঠিকানায়। মন্দির চত্বর ঢুকলেই মনে হবে, যেন কোথাও কোনো কিছুর তাড়া নেই। ভোরবেলার নিস্তব্ধতা, চারপাশের গাছপালার হালকা বাতাস, মৃদু মন্দিরঘণ্টার আওয়াজ—সব মিলিয়ে এক অপার প্রশান্তি। যারা ব্যস্ত জীবনে এক ফোঁটা স্বস্তি খুঁজতে আসেন, এই মন্দির তাঁদের মন ছুঁয়ে যায়।
প্রতিদিন সকাল ৬টায় মঙ্গল আরতি, সন্ধ্যা ৬টায় সায়াহ্ন আরতি, আর সপ্তাহে বিশেষ কীর্তনের আয়োজন থাকে। যে কেউ ঢুকে যেতে পারেন; এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক ভক্ত বলেন, এই মন্দিরে পা রাখলেই মন ফুরফুরে হয়ে যায়। কারও কারও আবার বিশ্বাস, নৃসিংহদেব জ্বরে-ব্যথা থেকে আরোগ্য দেন—তাই পূজা দিতে দূরদূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন মানুষ।
আপনার মন যদি একটু ক্লান্ত হয়ে থাকে, যদি একটু স্থিরতার খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে থাকেন—তবে একবার বগলা বাজারের এই নৃসিংহ মন্দিরে পা রাখবেন। সিংহমুখী ভগবানকে দেখবেন প্রহর গোনা শেষ করে বসে আছেন। আর আপনিও, হয়তো সেখানে দাঁড়িয়েই ভাববেন—ভাবনার সিংহের পিঠে জিন পরিয়ে দেওয়ার মতো এক জায়গা এটা।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।