Sri Sri Oggan Thakur Temple
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়া দিঘী হাওরের পাড়ে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরটি ‘অজ্ঞান ঠাকুর’ নামে খ্যাত এক সাধকের স্মৃতিবিজড়িত। রোগমুক্তি ও মানত পূরণের আশায় সব ধর্মের মানুষ এখানে ছুটে আসেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং পৌষ সংক্রান্তিতে বার্ষিক মেলার আয়োজন করা হয়।
এই মন্দিরের পেছনের গল্পটি শুরু হয় ‘কেশব’ নামের এক ছেলেকে ঘিরে। তিনি মৌলভীবাজারের বুড়িকোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ছোটবেলায় তাকে সহজ-সরল ও বোকা প্রকৃতির মনে করা হতো, কিন্তু তার এই আচরণের আড়ালে ছিল গভীর রহস্য। একদিন কেশব গ্রামের পাশের গভীর জঙ্গলে (যেখানে বাঘ ও বন্য মহিষের ভয় ছিল) চলে যান এবং তিন দিন পর তিনি সম্পূর্ণ নতুন মানুষ হয়ে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি খুব কম কথা বলতেন এবং ঠাকুরঘরের আশপাশেই সময় কাটাতেন।
একদিন এলাকার কয়েকটি গবাদি পশু হারিয়ে গেলে কেশব নিখুঁতভাবে বলে দেন সেগুলো কোথায় পাওয়া যাবে। তার কথা মতো গরুগুলো খুঁজে পেয়ে এলাকাবাসী অবাক হয়ে যায়। এরপর থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে অসুস্থ ও কষ্টে থাকা মানুষেরা তার কাছে সাহায্য চাইতে আসতে শুরু করেন। অনেকে বিশ্বাস করতেন, কেশবের স্পর্শ বা সান্নিধ্যেই সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়। একদিন তিনি বিনন্দরাম ধরকে বলেন, "জ্যাঠা, তোমার গাছের আম তো পেকে গেছে, আমাকে এনে দাওনি কেন?" অথচ তখন আমের মৌসুম ছিল না! এই ঘটনা কেশবের খ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়। ধীরে ধীরে তিনি ‘অজ্ঞান ঠাকুর’ বা ‘অগ্গন ঠাকুর’ নামে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাঁর স্মৃতিতে গড়ে ওঠে এই মন্দির।
বর্তমান অবস্থা ও উৎসব
মন্দিরটি এখনও ভক্তদের ভক্তি-শ্রদ্ধার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে টিকে আছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখানে প্রদীপ জ্বালানো হয়। প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এখানে একটি বাৎসরিক মেলার আয়োজন করা হয়। মন্দিরের চারপাশে প্রায় ৩০/৪০ শতক জমি রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মন্দিরের পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করায় মেলার স্থান সংকুচিত হয়েছে এবং মেলাটি প্রায় বিলুপ্তির পথে, তবুও এই মন্দিরটি স্থানীয় মানুষের কাছে এক অমূল্য আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য হয়ে আছে।
কীভাবে যাবেন: মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার উত্তরে এই মন্দিরের অবস্থান। স্থানীয় যানবাহনে ‘কাউয়া দিঘী হাওর’ বা ‘বিরিমাবাদ’ গিয়ে স্থানীয়দের সাহায্যে মন্দিরে পৌঁছানো যায়। সারা বছরই মন্দির দর্শন করা যায়, তবে পৌষ সংক্রান্তির সময় এখানে বিশেষ উৎসবের আমেজ থাকে।
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।