সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের গোসাইলডাঙ্গা এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মন্দিরটি একটি জাগ্রত শ্মশান কালী পীঠ হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি আছে, ১৯৫৮ সালে স্বর্গীয় জমিদার শ্রী জগমোহন চৌধুরী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির চত্বরের পাশেই রয়েছে একটি মহাশ্মশান, যা এই মন্দিরের আধ্যাত্মিকতাকে আরও গভীর করেছে।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
চট্টগ্রামের গোসাইলডাঙ্গা শ্রী শ্রী শ্মশান কালী বাড়ী শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পরম আস্থা ও ভক্তির পবিত্র স্থান। ব্যস্ত নগরীর কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে, ডবলমুরিং থানার প্রাণকেন্দ্রে এর অবস্থান।
🕰️ ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা: জানা যায়, ১৯৫৮ সালে (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ) স্থানীয় জমিদার ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিত্ব শ্রী জগমোহন চৌধুরী এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম থেকেই এটি একটি শ্মশান কালী মন্দির হিসেবে পরিচিতি পায়। একসময় জঙ্গলাকীর্ণ এই স্থানটি ধীরে ধীরে একটি দর্শনীয় তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে এটি "গোসাইলডাঙ্গা শ্রী শ্রী শ্মশান কালী বাড়ী ট্রাস্ট"-এর অধীনে পরিচালিত হতে থাকে। স্থানীয় ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় মন্দিরটি আজ একটি সুসংহত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
🏛️ স্থাপত্য ও অবস্থান: মন্দিরটি গোসাইলডাঙ্গা মৌজার বি. নগ লেন এলাকায় অবস্থিত। এর পাশেই রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশান। শ্মশানের পাশে অবস্থিত বলেই এই মন্দিরের নাম "শ্মশান কালী বাড়ী"। বিশ্বাস করা হয়, এই মন্দিরের দেবী মা শ্মশান কালী অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি ভক্তদের সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন। সম্প্রতি মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।
🎉 উৎসব ও আয়োজন: এখানে প্রতি বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। এছাড়া দুর্গাপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবেও এখানে ভক্তদের ঢল নামে। বিশেষ করে দীপাবলির রাতে প্রদীপের আলোয় পুরো এলাকা এক অভূতপূর্ব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। স্থানীয় দৈনিক আজাদী পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই মন্দিরের উৎসবের খবর প্রকাশিত হয়।
🌊 ভ্রমণ ও নিরাপত্তা: চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিএনজি বা রিকশাযোগে সহজেই গোসাইলডাঙ্গা আসা যায়। তবে ২০১০ সালে কিছু দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল এবং ২০২৬ সালে স্বর্ণালংকার চুরির একটি দুঃখজনক ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মন্দিরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাগ্রত শক্তির টানে প্রতিদিনই বহু ভক্ত এখানে পূজা দিতে আসেন।
প্রার্থনা ও বিশ্বাস: ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে মা কালীর কাছে মনোবাসনা জানালে তিনি শূন্য হাতে ফেরান না। তাই যে কেউ চট্টগ্রাম ভ্রমণে এলে এই পুণ্যভূমি থেকে মায়ের আশীর্বাদ নিতে পারেন। 🙏
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।









