
গ্যালারি






এডিট মোড চালু আছে
বন্ধ করুনparbotipur kali mondir







দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি প্রায় ৫০-৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় স্থাপনা। এটি পার্বতীপুর সেন্ট্রাল কালীবাড়ি নামেও পরিচিত এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন শত শত ভক্ত ও দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন।
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলা, রংপুর বিভাগের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানেই বিজনেস ও যাতায়াতের মিলনস্থল রাজবাড়ী রোডের পাশে গড়ে উঠেছে শ্রীশ্রী কালীমাতা মন্দির। এটি শুধু একটি মন্দির নয়, বরং ভক্তি ও শিল্পের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনাটি এখনও নির্মাণাধীন, তবুও এর আভিজাত্য ও কারুকার্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
🌺 স্থাপত্যশৈলী ও শিল্পকর্ম
মন্দিরের নকশা ও বিন্যাস অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তিনতলা বিশিষ্ট এই মন্দিরের প্রতিটি স্তরেই রয়েছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। নিচতলায় রয়েছে ভগবান গণেশ ও দেবী সরস্বতীর প্রতিমা, যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। মন্দিরের দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুরাণের নানা কাহিনি, টেরাকোটার কাজ আর আধুনিক রঙের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে এক স্বর্গীয় পরিবেশ। বিশেষ করে রাতে আলোকসজ্জা জ্বললে মনে হয় যেন দেবী স্বয়ং আবির্ভূত হয়েছেন।
🙏 উপাস্য দেবী ও পূজা ব্যবস্থা
এই মন্দিরের মূল দেবী হলেন মা কালী (এখানে উল্লিখিত নাম কালীমাতা)। স্থানীয় ভক্তদের বিশ্বাস, তিনি জাগ্রত দেবী, যিনি ভক্তের মানত পূরণ করেন ও বিপদ থেকে রক্ষা করেন। নিয়মিত এখানে সকাল-সন্ধ্যার পূজা, আরতি ও ভোগ নিবেদন করা হয়। কালীপূজা উপলক্ষে মন্দির চত্বরে বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে সারা দিন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কীর্তন, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক নাটক মঞ্চস্থ হয়। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, এখানে ধ্যান ও যোগ শিবিরও আয়োজিত হয়ে থাকে।
📊 নির্মাণের খরচ ও বর্তমান অবস্থা
সাম্প্রতিক তথ্যমতে, মন্দিরটি নির্মাণে ৫০ কোটি থেকে প্রায় ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে স্থানীয় উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও ভক্তদের আর্থিক সহায়তায় এই বিশাল মন্দির নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে, তবে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সংযোজনের কাজ এখনো চলমান। ইতিমধ্যেই মন্দিরের নিচতলার কিছু অংশ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, এবং প্রতিদিন শত শত পর্যটক ও ভক্ত এখানে আসছেন।
🎉 উৎসব ও অনুষ্ঠান
এ মন্দিরের বার্ষিক উৎসবের মধ্যে কালীপূজা সবচেয়ে জমকালো। সেই সময় মন্দির এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গ্রামীণ মেলা বসে। এছাড়া দীপাবলি ও জন্মাষ্টমীও এখানে ধুমধাম করে পালন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরের চারপাশের পরিকাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দর্শনার্থীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারেন।
🚂 কিভাবে যাবেন
ট্রেনযোগে: দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন বাংলাদেশের প্রধান ট্রেন যোগাযোগের কেন্দ্র। স্টেশন থেকে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় খুব সহজেই মন্দিরে পৌঁছানো যায়।
বাসযোগে: ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে দিনাজপুর-পার্বতীপুর রুটের বাস চলাচল করে। পার্বতীপুর বাসস্ট্যান্ড নেমে সেখান থেকে যানবাহনে আসা যাবে।
ব্যক্তিগত গাড়ি: পার্বতীপুর শহরের রাজবাড়ী রোড ধরে মন্দিরের দিকে আসা যায়। পার্কিং ব্যবস্থা চমৎকার।
💬 শেষকথা
পার্বতীপুরের এই অপূর্ব মন্দিরটি বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে। মা কালীর অপার কৃপা আর শিল্পের এই অপূর্ব মিশেল একবার নিজ চোখে দেখুন, মন জুড়িয়ে যাবে। জয় মা কালী, জয় জগন্নাথ, জয় হিন্দু ধর্ম! 🇧🇩
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।