
গ্যালারি






সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
🕉️ শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ, জৈনপুর, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট 🌸🙏 সতী মাতার গ্রীবা (ঘাড়) যেখানে পতিত হয়েছিল—৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই পীঠস্থানই আজ সিলেটের এক টুকরো স্বর্গ 🏛️💖
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর গ্রামে অবস্থিত ৫১ সতীপীঠের অন্যতম মহাপীঠ এটি। সতী দেবীর গ্রীবা (ঘাড়) এখানে পতিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। এখানে দেবী পূজিত হন মহালক্ষ্মী রূপে এবং ভৈরব রূপে পূজিত হন সম্বরানন্দ। তন্ত্রশাস্ত্রে বর্ণিত এই প্রাচীন তীর্থস্থানটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকার ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। নিয়মিত পূজা ও বার্ষিক উৎসবে মাকে স্মরণ করে হাজারও ভক্ত এখানে সমবেত হন।🙏✨
💫 সিলেটের ৫১ সতীপীঠের সোনার বাংলার একখন্ড স্বর্গ 💫
সিলেট নগরীর কোলাহল ছেড়ে কিছুটা দূরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নির্জন গ্রামীণ পথ পেরুলেই চোখে পড়ে এক প্রাচীন, জাগ্রত ও পবিত্রতম স্থান—শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ। পবিত্র ৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই মহাপীঠটি যেন চিরন্তন নারীশক্তির মহিমায় আজও উদ্ভাসিত।
📜 পুরাণের কাহিনি কেন এই স্থান এত পবিত্র?
প্রবাদ প্রবাদ ও পুরাণে বর্ণিত কাহিনি অনুসারে, একদা সত্য যুগে সতীদেবীর পিতা দক্ষ রাজা বৃহস্পতি নামে এক বিরাট যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর জামাতা মহাদেব ও কন্যা সতী দেবীকে সেই যজ্ঞে আমন্ত্রণ জানাননি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বামীর সঙ্গে সতী দেবী যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হলে দক্ষ রাজা তাঁদের অসম্মান ও অপমান করেন। অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী দেবী সেই স্থানেই যোগবলে দেহত্যাগ করেন। শোকে ও ক্ষোভে মহাদেব সতী দেবীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলে সৃষ্টিতে বিপর্যয় নেমে আসে। দেবতাদের অনুরোধে ভগবান বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে সতী দেবীর দেহ ছিন্ন করেন। সতী দেবীর দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেখানে যেখানে পতিত হয়, সেগুলো শক্তিপীঠ নামে পরিচিতি লাভ করে। পীঠের সংখ্যা শাস্ত্রভেদে ৫১টি বলা হয়ে থাকে, আর সতী দেবীর পবিত্র গ্রীবা (ঘাড়) এই ভূখণ্ডেই পতিত হয়েছিল বলে জানা যায়। ফলে স্থানটির নাম হয় “গ্রীবামহাপীঠ”।
🙏 উপাস্য দেবতা ও পূজার পদ্ধতি
এই পীঠে সতী দেবী মহালক্ষ্মী রূপে পূজিতা হন। হিন্দু শাস্ত্রমতে, মহালক্ষ্মী হলেন কৃপা, ঐশ্বর্য ও আত্মিক শক্তির দাত্রী। আবার পীঠরক্ষী রূপে শিব ‘সম্বরানন্দ’ বা ‘সর্বানন্দ’ ভৈরব নামে পূজিত হন। লক্ষণীয় যে এই মাতৃপীঠের অনতিদূরে ঈশান কোণে গোটাটিকর গ্রামে একটি পাহাড়ি টিলার ওপর পীঠরক্ষী ভৈরব সর্বানন্দের পৃথক মন্দির রয়েছে। এখানে দৈনন্দিন পূজার পাশাপাশি শাস্ত্রীয় তান্ত্রিক রীতিনীতির মাধ্যমে বিশেষ পূজাও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়।
⛳ প্রতিষ্ঠা ও প্রাচীন প্রমাণ
এই পীঠের পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নানা মতভেদ থাকলেও, ভারতের বিখ্যাত কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তাঁর অন্নদামঙ্গল কাব্যে বলেছেন— “শ্রীহট্টে পড়িল গ্রীবা মহালক্ষ্মী দেবী। সর্বানন্দ ভৈরব।” এই বাণী প্রমাণ করে যে বর্তমান সিলেট তথা প্রাচীন শ্রীহট্ট অঞ্চল এই মহাপীঠের আবাসস্থল। নিঃসন্দেহে প্রমাণিত যে স্থানটি সহস্রাব্দের অধিককাল যাবৎ সনাতন ধর্মপ্রাণ মানুষের তীর্থস্থান হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে।
🎉 উৎসব ও পূজা আয়োজন
এই পীঠ সারা বছর নানান উৎসবে মুখরিত থাকে। তার মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব ও বার্ষিক মহালক্ষ্মী ভৈরবী পূজা। সম্প্রতি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মহাষ্টমীর দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশেষ ‘কুমারী পূজা’। পূজার তিথি অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, দুপুরে ভোগারতি দর্শন, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় আরতি ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুনিপুণ আয়োজন করা হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ও শ্যামাপূজাও নিয়মিত এখানে অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর পূজা প্রতি বছর ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়। এই পূজা উপলক্ষে আগত ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরন করা হয়।
🚶 কীভাবে পৌঁছাবেন, দেখতে যা যা আছে
সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে জৈনপুর গ্রামের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে। দক্ষিণ সুরমা থানার অধীনস্থ জৈনপুর স্থানটি সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। সিলেট নগরীর যেকোনো প্রান্ত থেকে সিএনজি অটোরিকশা বা রিক্সা নিয়ে ‘জৈনপুর গ্রীবা মহাপীঠ’ বলে দিলেই গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। পীঠে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়ে মূল মন্দিরের বিশালাকৃতি প্রবেশদ্বার। ভিতরে মা মহালক্ষ্মীর রূপ ও আলোকসজ্জা ভক্তদের মন ভরিয়ে দেয়। অনতিদূরে গোটাটিকর গ্রামের টিলার ওপর ভৈরব সর্বানন্দ মন্দিরটিও দর্শনীয়।
💬 শেষকথা
গ্রীবা মহাপীঠ শুধু একটি মন্দির নয়, এটি এক জীবন্ত পুরাণ, সময়ের অম্লান সাক্ষী। শত বাধা উপেক্ষা করে আজও ভক্তরা ছুটে আসেন মায়ের চরণ ছোঁয়ার আশায়। আধ্যাত্মিক সন্ধানী মানুষের জন্য সিলেটের এই তীর্থ এক অপার বিস্ময় ও প্রশান্তির ঠিকানা।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।



