
গ্যালারি



সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ২৭ নং ওয়ার্ডের গোটাটিকর এলাকার শিববাড়িতে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম গ্রীবা মহাপীঠের পীঠরক্ষক ভৈরব হিসেবে পূজিত হন। পুরাণ মতে, সতী দেবীর গ্রীবা এখানে পতিত হয়েছিল।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
🏛️ গ্রীবা মহাপীঠ ও সর্ব্বানন্দ ভৈরবের ইতিহাস সিলেট মহানগরী থেকে দক্ষিণ-পূর্বে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোটাটিকর এলাকার শিববাড়ির এই প্রাচীন শিবমন্দির ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী। পুরাণ অনুসারে, সতী দেবীর দেহের গ্রীবাংশ (ঘাড়ের পেছনের অংশ) এ অঞ্চলেই পতিত হয়েছিল। সেই পবিত্র স্মৃতি-সুধা বহন করে এগিয়ে চলেছে এই পীঠস্থান। মূলত শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠের পীঠরক্ষী রূপে অধিষ্ঠিত আছেন ভৈরব সর্ব্বানন্দ। তন্ত্রশাস্ত্রের বিখ্যাত বাণী—“গ্রীবা পপাত শ্রীহট্টে সর্বসিদ্ধি প্রদায়িনী। দেবীতত্র মহালক্ষ্মী সর্বনন্দশ্চ ভৈরব।।” – অনুযায়ী ভৈরব সর্বানন্দ এ পীঠের চিরন্তন রক্ষক।
🔱 মন্দির নির্মাণ ও পুনরুদ্ধার এই প্রাচীন মন্দিরটি মূলত জৈনপুর মহালক্ষ্মী ভৈরবী মন্দিরের ঈশান কোনায় অবস্থিত। কালের গহ্বরে এই পীঠ ছিলো গুপ্ত, কিন্তু ১২শ–১৩শ শতকে রাস্তা নির্মাণের সময় দেবীপ্রসাদ দাশ নামে এক ব্যক্তি দৈবযোগে ‘গ্রীবাপীঠের’ কালো শিলা আবিষ্কার করেন। সেই থেকেই মন্দিরটির পুনরুজ্জীবন ঘটে। বর্তমানে মন্দিরটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নতি সাধিত হচ্ছে। তবুও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর গাম্ভীর্য্য এখানে আজও অটুট।
🛕 পূজা, আরতি ও উৎসব মন্দিরের পূজা পরিচালনা করেন দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি মহামায়া সার্বজনীন পূজা কমিটি (প্রতিষ্ঠিত ১৯৯১ সালে)। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এখানে ধূপ-ধুনো ও আরতি অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে:
শিবচতুর্দশী: স্নান, পূজা ও বিশেষ অঞ্জলি অনুষ্ঠানের জন্য মন্দির প্রাঙ্গণ লোকারণ্য হয়ে ওঠে。
মহাশিবরাত্রি: ভক্তগণ উপবাস ও রাত জেগে ভৈরবের আরাধনা করেন,হাজার হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে মহাদেবকে স্মরণ করেন।
শারদীয় দূর্গোৎসব: সিলেটের শিববাড়ীর অন্যতম প্রাচীন অনুষ্ঠান মহামায়া সার্বজনীন কমিটি আয়োজন করে থাকে।
🌺 ভক্তদের চোখে মন্দির সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত এই মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে “জাগ্রত ভৈরবের আসন” হিসেবে পরিচিত। দর্শনার্থীরা বিশ্বাস করেন, এখানে সত্যিকার প্রার্থনা করলে মহাদেব ভক্তের সমস্ত বাধা-বিপদ দূর করেন। শান্তি, সমৃদ্ধি ও আত্মশুদ্ধির সন্ধানী মানুষজন এখানে এসে মানত-প্রার্থনা জানিয়ে থাকেন।
🚩 কীভাবে যাবেন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে স্থানীয় রিক্সা, সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে “গোটাটিকর শিববাড়ি” চলে আসতে পারবেন। নির্দিষ্ট গন্তব্য শনাক্ত করতে দর্শনার্থীরা মিয়াহ ফজিল চিশত জামে মসজিদের পাশে এবং রেইনবো গেস্ট হাউজের বিপরীতে অবস্থিত এই মন্দিরটিকে চিহ্নিত করতে পারেন।
💖 শেষকথা শ্রী শ্রী সর্ব্বানন্দ ভৈরব মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও ৫১ সতীপীঠের মহিমার জীবন্ত দলিল। সিলেটের শিববাড়ির এই মন্দিরে পা রাখলেই মন ভরে যায় মন্ত্রমুগ্ধতায়। তাই একবার এসে দেখুন সর্ব্বানন্দ ভৈরবের করুণা-চরণ স্পর্শ করে নিন, নিজের জীবনে প্রশান্তি ও পুণ্য অর্জন করুন।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।



