University of Chittagong Central Temple (Saraswati Gyan Mondir)
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটিই প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির। দেবী সরস্বতীর নামে এই ‘জ্ঞান মন্দির’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞানচর্চা ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। ২০২৬ সালে এর উদ্বোধন হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি নিস্তব্ধতায় এক অনন্য আধ্যাত্মিক ঠিকানা হলো সরস্বতী জ্ঞান মন্দির। বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাস, ২ নম্বর গেইটের কাছে ফতেপুর মৌজায় অবস্থিত এই মন্দির শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি জ্ঞানসাধনার এক পীঠস্থান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির নামেও পরিচিত এই স্থাপনা বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির, যা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
শিক্ষাঙ্গনে একটি স্থায়ী উপাসনালয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ২০১১ সালে গঠিত ‘চবি সনাতন ধর্ম পরিষদ’-এর জোরালো দাবির মুখে ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মন্দির নির্মাণের অনুমোদন দেয়। কিন্তু পথটা সহজ ছিল না; অবশেষে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে স্বপ্ন বাস্তবের রূপ পেতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল মন্দিরটির শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেদিন সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে বৈদিক মন্ত্র, গীতা পাঠ আর ‘স্মরণিকা-২০২৬ : জ্ঞানমঞ্জরী’ প্রকাশনার মধ্য দিয়ে চবির ইতিহাসে যুক্ত হয় এক সোনালি অধ্যায়। দানবীর অদুল কান্তি চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরীর অর্থায়নে নির্মিত এই মন্দির ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রায় ২০,০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই মন্দির স্থাপত্যের দিক থেকেও অনন্য। সাদা-কমলা রঙের নকশা, ফুলেল বাগান আর চারপাশের সবুজ পাহাড়ের কোলে মন্দিরটির সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিকল্পনা এটিকে নিছক প্রার্থনাগৃহে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিণত করবে এক সমৃদ্ধ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে। এখানে গড়ে তোলা হবে বৈদিক গ্রন্থাগার, নিয়মিত সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হবে, আর ধ্যানকেন্দ্র হবে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তির ঠিকানা। একই সঙ্গে অসহায় মানুষের জন্য বিশেষ কল্যাণ তহবিলও এই মন্দিরেরই অংশ।
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, এই মন্দির শুধু প্রার্থনার জায়গা নয়, এটি সম্প্রীতির প্রতীক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩,৫০০ সনাতন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের মিলনস্থল এটি। উদ্বোধনী দিনে বক্তারা বলেছিলেন, “জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি”—এই দর্শন বুকে ধারণ করেই সরস্বতী জ্ঞান মন্দির হয়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাতিঘর। চট্টগ্রামে বেড়াতে এলে চবির এই নীরব পুণ্যভূমিতে একবার সময় করে ঘুরে আসতেই হবে, কারণ এ এক স্বর্গীয় অনুভূতি, যেখানে জ্ঞান আর ভক্তি মিলেমিশে একাকার।
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।