Chaitanya Mahaprabhu Temple, Sylhet
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের মিশ্রপাড়া গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর বাড়ি। আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে গোলাব রায়ের উদ্যোগে নির্মিত এই মন্দির চৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্বপূরুষদের বাসস্থান হিসেবে পরিচিত।
আমাদের অনেকেরই জানা আছে, ভক্তিরসসিন্ধু শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু এই মহান আচার্যের শিকড় কোথায়? ইতিহাস ও জ্যেষ্ঠ প্রমাণ থেকে জানা যায়, তাঁর বংশের পিতামহ শ্রীপাদ উপেন্দ্র মিশ্র ও পিতামহী শ্রীমতি শোভা দেবী এই ঢাকা দক্ষিণ গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। সেই থেকেই এই স্থানটি চৈতন্য মহাপ্রভুর ‘পিতৃভূমি’ হিসেবে চিহ্নিত।
তৎকালীন সমাজবাস্তবতায় উপেন্দ্র মিশ্রের পুত্র জগন্নাথ মিশ্র (মহাপ্রভুর পিতা) ও শচীদেবী (মাতা) স্বপ্নাদেশ পেয়ে নবদ্বীপে গমন করেন এবং সেখানেই গৌরাঙ্গের আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু সেই ব্রজে যাওয়ার পর এই ঠাকুরবাড়ি অপরূপ স্মৃতির আকর হয়ে থাকে।
🚩 চৈতন্য মহাপ্রভুর আগমন ও আজও টিকে থাকা লীলাবেদনা সন্ন্যাস গ্রহণের পর শচীদেবীর নির্দেশে মহাপ্রভু তাঁর পিতৃভূমি দর্শনে যাত্রা করেন এবং ‘ঢাকা দক্ষিণ ঠাকুরবাড়িতে’ পদার্পণ করেন। প্রবীণ শ্রোতাদের বিশ্বাস, এটি চৈত্র মাসের এক রোববার ঘটেছিল। দাদীমাতা শোভা দেবী স্বয়ং তাঁর আদরের নাতিকে নিজ চোখে দেখে ধন্য হয়েছিলেন, আর মহাপ্রভু তাঁর উপহার হিসেবে শ্রীকৃষ্ণ ও নিজের প্রতিমূর্তি এখানে রেখে যান।
এটুকুই নয়, তিনি নির্দেশ দেন- এই বিগ্রহ দু’টি যাতে প্রতিষ্ঠিত থেকে চিরদিন তাঁর বংশীয় ও ভক্তসমাজের আরাধনালয় হয়ে থাকে। সেই থেকেই এ স্থান ‘ঠাকুরবাড়ি’ রূপে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। প্রতিবছর চৈত্রমাসে বিশেষ ‘আগমন উৎসব’ পালিত হয় বলে জানা যায়, যেখানে মাসব্যাপী নানা আয়োজন চলে।
🏛️ মন্দির স্থাপত্য ও বিগ্রহসমূহ শ্রী চৈতন্য মন্দিরটি একটি প্রাচীন পাথুরে টিলার ওপর অবস্থিত। স্থাপত্যশৈলীতে বাংলার মন্দির নির্মাণশৈলীর ধ্রুপদি ছাপ দেখা যায়। মন্দিরের ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে-
শ্রীগৌরাঙ্গ ও শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ — স্বয়ং মহাপ্রভুর হাতে স্থাপিত
শচীমাতা ও জগন্নাথ মিশ্রের মূর্তি
ঠাকুরদাদা উপেন্দ্র মিশ্র ও দাদীমাতা শোভা দেবীর স্মৃতিসৌধ
পাশেই রয়েছে গোপেশ্বর শিব মন্দির ও অমৃতকুণ্ড; কিংবদন্তি আছে যে উপেন্দ্র মিশ্র এই কুণ্ডে তপস্যা করে সন্তানলাভ করেছিলেন।
🎉 উৎসব ও পূজা পরিচালনা মন্দির কমিটি প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যার আরতি নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করে। সপ্তাহের বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রতি রোববার ভক্ত সমাবেশ, কারণ ধারণা করা হয় মহাপ্রভু রোববারেই এখানে আগমন করেন।
বাৎসরিক উৎসবের তালিকায় রয়েছে-
চৈত্র মাসব্যাপী চৈতন্য মহাপ্রভুর আগমন উৎসব ও মেলা।
দোলযাত্রা, রথযাত্রা, ঝুলনযাত্রা ও রাসোৎসব।
গৌর পূর্ণিমা ও নৃসিংহ চতুর্দশী তিথিতেও বিশেষ পূজার আয়োজন হয়।
🚌 কীভাবে যাবেন ও ভ্রমণ টিপস ঢাকা থেকে যাতায়াত: সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘গোলাপগঞ্জ’ বা ‘সিলেট’行ী বাসে চেপে গোলাপগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামুন। অথবা ট্রেনে সিলেট এসে সেখান থেকে প্রাইভেট কার/সিএনজি যোগে ‘ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের মিশ্রপাড়া’ চলে যান।
ভিজিটিং সময়: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা। রোববার ভক্ত সমাগম বেশি থাকে।
থাকা ও খাওয়া: গোলাপগঞ্জ শহরে নামমাত্র মানের হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। উন্নত ব্যবস্থার জন্য সিলেট সদরে অবস্থান করাই বেশি আরামদায়ক।
শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর বাড়ি (ঢাকা দক্ষিণ ধাম) শুধু একটি মন্দির বা দর্শনীয় স্থান নয়, এটি এক জীবন্ত ইতিহাস — হাজারো ভক্তের চরণচিহ্নে সিক্ত এক চিরায়ত পীঠ। এখানে দাঁড়িয়ে ভাবুন, প্রায় পাঁচ শতক আগে গৌরাঙ্গের নিজ পা ছিল এই মাটির ওপর। আজও তাঁর অমোঘ আশ্বাসের সুর ‘হরে কৃষ্ণ’ মন্ত্রে মুখর হয় চত্বর।
এই ‘কলিযুগের অবতার’ ঠাকুরদাদার এই পৈতৃক ভিটায় আপনার পা পড়ুক, ভক্তি ও করুণার বাণী আপনাকে স্পর্শ করুক। আসুন বাংলার এই গৌরবময় ধামের সাক্ষী হন, ভক্তির স্রোতে নিজেকে ডুবিয়ে দিন আর আত্মশুদ্ধি অর্জন করুন।
জয় শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য, হরে কৃষ্ণ হরে রাম। 🕊️💖
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।
রিভিউ লোড হচ্ছে...
এই মন্দিরের তথ্য আমাদের সিস্টেম দ্বারা যাচাইকৃত।