সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সিলেট নগরীর মিরাবাজারে অবস্থিত শ্রীশ্রী বলরাম জিউর আখড়া প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী বৈষ্ণব প্রতিষ্ঠান। ১৭৫০ সালে জমিদার মদন মুন্সি এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে দশম-দ্বাদশ শতকের দুটি বিষ্ণু মূর্তি, একটি গণেশ মূর্তি ও পঞ্চদশ-ষোড়শ শতকের একটি শিবলিঙ্গ পূজিত হয়।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
শ্রীশ্রী বলরাম জিউর আখড়া সিলেটের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি বৈষ্ণব প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এটি সিলেট নগরীর মিরাবাজার মহল্লায় অবস্থিত এবং ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৫৭ সন) সিলেটের প্রভাবশালী জমিদার মদন মুন্সি এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আধুনিক সিলেট শহরে এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। আখড়া চত্বরে মূল মন্দির তথা ‘শ্রী মন্দির’ ছাড়াও একটি শিব মন্দির, একটি দুর্গা মন্দির ও একটি নাটমন্দির রয়েছে। মন্দির চত্বরে বেশ কিছু প্রাচীন মূর্তি ও প্রত্নবস্তু সংরক্ষিত আছে, যার মধ্যে দুটি বিষ্ণু মূর্তি ও একটি ক্ষুদ্র গণেশ মূর্তি উল্লেখযোগ্য। গবেষকরা মনে করছেন, এগুলো খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। এছাড়া একটি পঞ্চমুখী শিবলিঙ্গ রয়েছে, যার সময়কাল আনুমানিক পঞ্চদশ থেকে ষোড়শ শতক। এই মূর্তিগুলির একটি ১৯৭৩ সালে ফরহাদ খাঁর পুলের নিচ থেকে আবিষ্কৃত হয়, অন্যটি একই বছর মিরাবাজারের হিন্দুয়ানি পাড় পুকুর খননকালে পাওয়া যায়।
আখড়াটি নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু। বার্ষিক অনুষ্ঠানের মধ্যে বলরাম জিউর আবির্ভাব উৎসব ও শ্রীরাম নবমী মহোৎসব অন্যতম। এছাড়া এখানে ষোড়শ প্রহরব্যাপী নামযজ্ঞ ও লীলা সংকীর্তন মহোৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশ-বিদেশের ভক্ত ও সৎসঙ্গীরা অংশ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে আখড়া প্রাঙ্গণে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উপলক্ষেও অষ্টপ্রহরব্যাপী কীর্তন মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আখড়াটি একটি পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলকে সভাপতি ও শ্যামল চন্দ্র দেকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আখড়ার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এর প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের মতে, সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস পুনর্গঠনে এই মূর্তিগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। বলরাম জিউর আখড়া তাই শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং বাংলার ইতিহাস ও শিল্প ঐতিহ্যের এক অনন্য ধারক ও বাহক।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।









