
গ্যালারি




সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
বাংলাদেশের "দ্বিতীয় মায়াপুর" 🌸🕊️ সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ গেট নং-১-এর বিপরীতে অবস্থিত ইসকন যুগলটিলা মন্দির। এটি শ্রীশ্রী রাধামাধব, শ্রীশ্রী জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানী ও শ্রীশ্রী নৃসিংহদেবের আরাধনাস্থল।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
ভোরের সূর্যের কিরণ যখন সিলেটের কাজলশাহ এলাকায় পড়ে, ধীরে ধীরে জেগে ওঠে যুগলটিলা ইসকন মন্দিরের চত্বর। এই মন্দিরের জন্মকথা শুনলে মন ভরে যায় ভক্তিতে। সময়টা অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে। গৌরীপুরের জমিদার জুগল কিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন সিলেটের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যুর পর পুত্র প্রাণকৃষ্ণ নাথ রায় চৌধুরী নিজ পিতার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এই জমিতে নির্মাণ করেছিলেন যুগলটিলা আখড়া। জমিদারের একাগ্র ভক্তি আর মানবতাবোধের ফলেই এ জমিটি আজ ইসকনের পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে।
কেটে গেল বহু বছর। বিগ্রহ নষ্ট হয়, আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের ১২ আগস্ট, বলরাম পূর্ণিমা তিথিতে, ইসকনের এক কিংবদন্তি পুরোহিত শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরু মহারাজের হাত ধরে মন্দিরে স্থাপিত হলো শ্রীশ্রী রাধামাধবের বিগ্রহ। ভক্তদের মন আশায় পূর্ণ হলো, পুরনো বিগ্রহ না থাকলেও নতুন বিগ্রহে যেন ভগবান আবার ফিরে এলেন, দিলেন অভয়। তৎকালীন ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজের তত্ত্বাবধানে চলে সমগ্র প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান। এই মহাঅভিষেক উৎসবে সিলেটসহ সারা দেশ থেকে লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে, মন্দির এলাকা পরিণত হয় ভক্তিময় এক উৎসবে। ওই দিনটি যেন ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে চিরকালের জন্য।
🎉 উৎসবে উৎসবে মেতে ওঠা চত্বর 🎉
আজকের যুগলটিলা ইসকন মন্দির শুধু উপাসনালয় নয় - এটি এক জীবন্ত সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর। মন্দিরের বার্ষিক উৎসবের তালিকা বেশ বড়! তার মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ হচ্ছে রথযাত্রা। সারা বিশ্বের ইসকন মন্দিরের ন্যায়, যুগলটিলা থেকেও শুরু হয় নয় দিনব্যাপী এই রথযাত্রা মহোৎসব। প্রথম দিন সকালে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তির কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপরে বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর তিনটি প্রকান্ড রথকে ঘিরে হাজারো ভক্তের ঢল নেমে আসে সিলেটের রাস্তায়। মঙ্গল আরতি, জন্মাষ্টমী, নৃসিংহ চতুর্দশী, গৌর পূর্ণিমাসহ সবকটি পবিত্র তিথিতেই মন্দির চত্বর ভক্তের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে।
🍛 প্রসাদ সেবা ও মানবসেবা 🍛
এই মন্দিরের চত্বরে প্রতিদিন চলে বিশেষ সেবা ধর্ম - মহাপ্রসাদ বিতরণ। ভক্ত ও অতিথি, দরিদ্র ও ধনী - সকলের জন্য খাবারের আয়োজন থাকে মন্দির চত্বরে। শুনতে অবাক লাগলেও, এই মন্দিরের চত্বরেই রয়েছে ভক্তিবেদান্ত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ছাত্রাবাসের সুব্যবস্থা। ২০২০ সালের শুরুতে মন্দির অভ্যন্তরেই স্কুলটি নির্মিত হয়, যা যুগলটিলার শিক্ষা প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়াও চলছে একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ; অন্তত ২০২২ সালে গুরু মহারাজ এখানে একটি বিশেষ হাসপাতাল নির্মাণের কথা উল্লেখ করেছিলেন। শুধু প্রার্থনা নয়, ইসকন এখানে সেবার জাল বুনছে সর্বত্র।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।



