সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
প্রায় ১৪০০ বছর আগে সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি অতি প্রাচীন কালী মন্দির। এটি চণ্ডীমূড়া মন্দির নামেও পরিচিত ও পাশেই রয়েছে একটি শিব মন্দির।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
কুমিল্লার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় ও তীর্থস্থান লালমাই চণ্ডী মন্দির, যা চণ্ডীমূড়া মন্দির নামেও সুপরিচিত। এটি লালমাই পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত বলে এর নামকরণ হয়েছে।
🏛️ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও কিংবদন্তি প্রতিষ্ঠাতা ও সময়কাল: সপ্তম শতাব্দীতে বৌদ্ধ রাজা দেব খড়গ (Devkharag) তার হিন্দু রাণী রাণী প্রভাবতী দেবী (Rani Probhaboti) -র অনুরোধে এই মন্দির ও পাশে একটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন।
পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার: মূল মন্দির দুটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেলে, ১৭শ শতকে ত্রিপুরার যুবরাজ চম্পক রায় দেওয়ানের ভগ্নি দ্বিতীয়া দেবী (Diteea Debi) মন্দির দুটি পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করেন। সর্বশেষ, ১৯৭২-৭৩ সালে স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজ মন্দির দুটি উদ্ধার ও সংস্কার করেন।
🙏 ধর্মীয় তাৎপর্য ও স্থাপত্য দেবতা: মূল মন্দিরটি দেবী কালী ও চণ্ডী-কে উত্সর্গীকৃত। পাশেই রয়েছে আরেকটি মন্দির যা ভগবান শিব-কে উত্সর্গীকৃত।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: এটি একটি প্রাচীন পীঢ়া শৈলীর মন্দির। পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৮০টি সিঁড়ি অতিক্রম করতে হয়। পাহাড়ের মাটির রং লাল, যা জনশ্রুতি অনুসারে দেবী চণ্ডীর দেহতাপের ফলে হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
🗓️ উৎসব ও কিভাবে যাবেন উৎসব: এখানে প্রতিবছর কালীপূজা, কার্তিক মাসের দেওয়ানি উৎসব, পৌষ-মাঘ মাসে গীতা সম্মেলন এবং ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বাসন্তী মহাঅষ্টমী বিশেষভাবে পালিত হয়।
যাতায়াত: কুমিল্লা জেলা সদর থেকে এটি প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কুমিল্লার লালমাই বাজার হয়ে সহজেই যাওয়া যায়। স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশায় করে পৌঁছানো যায়।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।








