সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
কুমিল্লার এই মন্দিরটি ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো বাংলার টেরাকোটা স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত এই মন্দিরটি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবতাকে উৎসর্গীকৃত। মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটার অসাধারণ কারুকাজ রয়েছে। এটি 'সতেরো রত্ন মন্দির' নামেও পরিচিত, কেননা একসময় এতে সতেরোটি চূড়া ছিল।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
পূব বাংলার মাটিতে হিন্দু স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হলো শ্রী শ্রী গুপ্ত জগন্নাথ মন্দির। এটি বহুল পরিচিত 'সতেরো রত্ন মন্দির' নামেও। খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত এই মন্দিরটি প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরনো। এটি কুমিল্লা শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত। এখানে পূজিত হন ভগবান জগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রা。 মন্দিরের গঠনশৈলী অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এটি একটি ইট নির্মিত টেরাকোটা মন্দির, যার দেওয়াল জুড়ে রয়েছে টেরাকোটার অসাধারণ সব নকশা ও ভাস্কর্য, যা বাংলার সমৃদ্ধ শিল্প ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মন্দিরের চারপাশে ঘন সবুজ গাছে ঘেরা একটি শান্ত পরিবেশ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আলাদা একটা অনুভূতি দেয়।
এই মন্দিরটির ইতিহাস বেশ নাটকীয়। বাংলার টেরাকোটা স্থাপত্যের এ নিদর্শনটি এক সময়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং এর চারপাশের এলাকা বেদখল হয়ে যায়。 দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে মন্দিরটি ছিল সম্পদহীন। এমনকি জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার সময় মন্দিরটির ১২০ একর জমি ছিল, যা দখল হতে হতে মাত্র ২০ একরে নেমে এসেছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসন মন্দিরের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে একটি অভিযান পরিচালনা করে। সেই অভিযানে ছয় শতক জমি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে মন্দিরটির জমি উদ্ধার ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে।
মন্দিরটির আরেক নাম ‘সতেরো রত্ন মন্দির’ (Seventeen-Ratna Temple)। নাম থেকেই বোঝা যায়, একসময় মন্দিরে সতেরোটি শিখর বা ‘রত্ন’ ছিল, যা টেরাকোটা স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। দুঃখের বিষয়, কালের বিবর্তনে এসব শিখর ধ্বংস হয়ে গেছে। মন্দিরটির জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার যে মূর্তিগুলো আছে, সেগুলো আসলে মূলত ত্রিপুরার একটি মন্দিরে স্থাপিত ছিল, যা পরবর্তীকালে এখানে নিয়ে আসা হয়। এই মন্দিরটি কুমিল্লা জেলার সবচেয়ে প্রাচীন একটি নিদর্শন। এটি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত একটি পুরাকীর্তি।
কীভাবে যাবেন: মন্দিরটি কুমিল্লা শহরের অদূরে অবস্থিত। কুমিল্লা শহরটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে সড়ক ও রেলপথে যুক্ত। সায়েদাবাদ, মহাখালী থেকে বাসে অথবা কমলাপুর থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম行ী যেকোনো বাস বা ট্রেনে কুমিল্লা এসে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে অটোরিকশা, রিক্সা বা সিএনজি যোগে খুব সহজেই 'জগন্নাথপুর ইউনিয়ন' বা 'সতেরো রত্ন মন্দির' পৌঁছানো যায়。
জয় জগন্নাথ। 🙏
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।







