সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের শ্রীশ দাস লেনে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির। ব্রিটিশ আমলে ধনাঢ্য জমিদার শ্রীশ দাস এটি প্রতিষ্ঠা করেন। হেরিটেজ কারুকার্য ও রঙিন কাঁচের অসাধারণ নকশা মন্দিরটির স্থাপত্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র বাংলাবাজারের সরু অলিগলিতে, সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শ্রী শ্রী প্রাণবল্লভ জিউ মন্দির। এই মন্দিরটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পুরান ঢাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র উপাসনালয় ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির স্থান। এই মন্দিরটি ব্রিটিশ আমলে বর্তমান রূপে নির্মিত হয় এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন ধনাঢ্য জমিদার শ্রীশ দাস। তাঁর নামানুসারেই এই গলির নামকরণ করা হয় ‘শ্রীশ দাস লেন’ । এটি প্রমাণ করে যে মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও সমাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এই মন্দির কমপ্লেক্সের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী। মন্দিরের অভ্যন্তরে হেরিটেজ কারুকার্য ও রঙিন কাঁচের বাহারী নকশা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত দেয়াল ও স্থাপত্যের নান্দনিকতা, যা একসময়ের শিল্পচর্চার উৎকর্ষতার পরিচয় বহন করে। মন্দিরটির পাশেই রয়েছে একটি হেরিটেজ শিব মন্দির। স্থানীয় সূত্রমতে, এই কমপ্লেক্সে শ্রী শ্রী শিব মন্দির ও শ্রী শ্রী প্রাণ বল্লভ মন্দির – এই দুটি মন্দির রয়েছে।
যদিও মন্দিরটির সঠিক বয়স নিয়ে কোনো নথিভুক্ত তথ্য নেই, তবে স্থানীয় ঐতিহাসিক ও প্রবীণদের ধারণা এটি শতবর্ষ প্রাচীন। মন্দিরটি পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের শ্রীশ দাস লেনে অবস্থিত। এলাকাটি মূলত বইপত্র ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। মন্দিরের আশেপাশে পরীবিবির সমাধিস্থল রয়েছে, যা থেকে মন্দিরটি প্রায় ১৭০ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত। এলাকাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়, কারণ সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র সম্রাট আজম শাহ বাংলার সুবেদার থাকাকালে এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।
কীভাবে যাবেন ও ভ্রমণ তথ্য: ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি অটোরিকশা বা রিকশা যোগে বাংলাবাজার যাওয়া যায়। বাংলাবাজার এলাকায় পৌঁছে শ্রীশ দাস লেন খুঁজে বের করতে হবে। স্থানীয় লোকজন ‘প্রাণবল্লভ জিউ মন্দির’ বা ‘শ্রীশ দাস লেনের মন্দির’ বলে দিলে পথ দেখিয়ে দেবেন। সারা বছরই মন্দির দর্শন করা যায়, তবে দুপুরের আগে গেলে শান্ত পরিবেশে মন্দিরের স্থাপত্য উপভোগ করা সম্ভব। মন্দিরের স্থাপত্য ও ইতিহাস জানতে আগ্রহীদের জন্য এটি পুরান ঢাকার একটি অমূল্য ঐতিহ্য।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।









