সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এখনো কোনো স্থায়ী কেন্দ্রীয় মন্দির গড়ে ওঠেনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চের পাশে প্রতীকী মন্দির তৈরি করেন।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত। এই ক্যাম্পাসে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী লেখাপড়া করলেও তাদের নিজস্ব কোনো উপাসনালয় ছিল না। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা একটি কেন্দ্রীয় মন্দিরের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রশাসন বারবার জায়গা সংকটের কথা বলে এই দাবি নাকচ করে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, মন্দিরের জন্য প্রস্তাবিত জায়গায় প্রশাসন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ শুরু করায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। প্রশাসনের কোনো সাড়া না পেয়ে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা দেব-দেবীর বিগ্রহ ও পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে প্রতীকী ‘কেন্দ্রীয় মন্দির’ উদ্বোধন করে এবং সেখানেই রাত কাটায়। এরপর থেকে সেখানেই নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। এমনকি ২০২৬ সালের শিব চতুর্দশীর পূজাও এই অস্থায়ী মন্দিরেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল জানান, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সনাতন শিক্ষার্থী থাকলেও কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির নেই’। জবি সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি সুমন কুমার দাস জানান, ‘আমরা নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপূজা সম্পন্ন করেছি এবং সেখানেই কেন্দ্রীয়ভাবে মন্দির স্থাপন করা হবে’।
তবে প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী’ এবং মন্দিরের জায়গায় টয়লেট নির্মাণের খবর ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’। প্রশাসন আরও দাবি করে, ক্যাম্পাসের ভৌত অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে স্থায়ী মন্দির নিাণ কঠিন।
সব মিলিয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির বর্তমানে একটি প্রতীকী স্থাপনা। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং ক্যাম্পাসের ধর্মীয় সমতার লড়াইয়েরও প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।









