সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত পুরান ঢাকার তাতি বাজারের এই প্রাচীন মন্দিরটি জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার জন্য বিখ্যাত।এর অলংকৃত সম্মুখভাগ ২০০৮ সালে ভেঙে ফেলা হয়, যা এর স্থাপত্য ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
পুরান ঢাকার তাতি বাজারের এই মন্দিরটি একটি শতাব্দী-প্রাচীন স্থাপনা। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১৫০ বছর আগে এলাকার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, বিশেষ করে হরিপ্রসাদ দে ও কার্তিক সেন এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতল এই মন্দিরটি উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে তৈরি।
✨ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য (Architectural Features) মন্দিরটি তার অসাধারণ স্থাপত্যের জন্য পরিচিত ছিল, বিশেষ করে অলংকৃত সিরামিক টাইলস ও ছাঁচে তৈরি টালির জন্য। স্থপতি তৈমুর ইসলামের মতে, এখানে 'চিনি টিকরি' (চূর্ণ কাঁচ) ও সিরামিকের সংমিশ্রণে এক হাইব্রিড সজ্জা ব্যবহার করা হয়েছিল। এর উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল:
করিন্থীয় রাজধানীযুক্ত অষ্টভুজাকৃতি স্তম্ভ।
ছোট ছোট অলংকৃত গম্বুজ (কুপোলা)।
পিলাস্টার, উঁচু কার্নিশ ও প্যারাপেট।
লণ্ঠন-আকৃতির গম্বুজের সজ্জা ও পদ্ম-আকৃতির ভিত্তি।
প্রলম্বিত জানালা (বে-উইন্ডো)।
🚨 বর্তমান অবস্থা (Current Status) দুঃখজনকভাবে, ২০০৮ সালে জরাজীর্ণ অবস্থার অজুহাতে মন্দির কমিটির অর্থের অভাবে মন্দিরটির ঐতিহাসিক অলংকৃত সম্মুখভাগ ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। সংরক্ষণ স্থপতিরা একে অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। রক্ষার কোনো উদ্যোগ ব্যর্থ হলে পুরনো স্থাপনার পরিবর্তে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়।
🙏 তাৎপর্য ও রথযাত্রা (Significance and Rath Yatra) যদিও এর মূল স্থাপনা হারিয়ে গেছে, তবুও জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা এখনো এখানকার প্রধান ও সর্বাপেক্ষা জমকালো ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এই উৎসবটি পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং আশপাশের এলাকা যেমন শাঁখারি বাজারেও উদযাপিত হয়।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।








