
গ্যালারি






সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও সবুজ প্রকৃতির কোলে ‘সৎসঙ্গ বিহার’ আধ্যাত্মিকতার এক স্বর্গীয় ঠিকানা। এটি শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ‘সৎসঙ্গ’ দর্শনের একটি প্রধান কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত প্রার্থনা, ধ্যান, কীর্তন ও ভাগবত পাঠ হয়, সেই সঙ্গে চলে শিক্ষামূলক কর্মসূচি, রোগশয্যা সেবা এবং পাঠাগার সেবা।
বিস্তারিত ইতিহাস ও বিবরণ
🌱 সৎসঙ্গের যাত্রাশুরুর গল্প “সৎসঙ্গ” শব্দটির আক্ষরিক অর্থ—সৎজনের নিকটে বসবাস। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র এই ধারণাটিকে বিজ্ঞানসম্মত ও সর্বজনীন দর্শনে রূপ দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে সৎচিন্তা ও সৎকর্মের পথে এগোলে পৃথিবী বদলে যায়। তাঁর এই অভিপ্রায় থেকেই গড়ে ওঠে চট্টগ্রাম সৎসঙ্গ বিহার।
চট্টগ্রামে সৎসঙ্গের বীজ বপন হয়েছিল ১৯৪৭ সালের দিকে। তখন মুষ্টিমেয় কয়েকজন সৎসঙ্গী বক্সিরহাটের একটি দোকান ও গোসাইলডাঙ্গার বিভিন্ন বাড়িতে মিলিত হতেন। পরে ১৯৫০-৫১ সালের দিকে তারা একটি স্থায়ী আশ্রম তৈরির উদ্যোগ নেন। প্রথমদিকে ফিরিঙ্গী বাজার শিববাড়িতে মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় কার্যক্রম শুরু হলেও পরে সেটি ৭৫ টাকায় উন্নীত হয়। নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে এই ক্ষেতচর এলাকায় গড়ে ওঠে বর্তমানের এই সৎসঙ্গ বিহার।
🙏 বর্তমান চট্টগ্রাম সৎসঙ্গ বিহারের রূপ ও স্থাপত্য আশ্রমটির প্রবেশপথে রয়েছে বিশাল ‘সৎসঙ্গ স্মরণী’ ফলক। ভিতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন প্রার্থনা মণ্ডপ, যেখানে প্রতিদিন প্রার্থনা ও কীর্তন হয়। চার পাশের পাহাড়ি সৌন্দর্য ও সবুজ গাছপালা এখানকার নির্মলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিহারটির ভেতরে একটি প্রশস্ত অডিটোরিয়াম, একটি ধ্যান কক্ষ ও সৎসঙ্গীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
আশ্রমের ভেতরে রয়েছে:
প্রধান প্রার্থনাকক্ষ: যেখানে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ভজন ও প্রার্থনা হয়।
তপোবন বিদ্যানিকেতন: বিহারের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা দেয়।
বিনামূল্যে চিকিৎসাকেন্দ্র ও পাঠাগার: দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সেবামূলক কার্যক্রম।
প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র: যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানে বা দৈনন্দিন ভিত্তিতে মহাপ্রসাদ বিতরণ চলে।
🎉 উৎসব ও অনুষ্ঠান এ বিহারের বছরভর নানা উৎসব পালিত হয়। সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হলো শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্ম উদযাপন (অনুষ্ঠান), যা ২০২৬ সালের ২৬–২৭ ফেব্রুয়ারি ধুমধামের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় সৎসঙ্গীরা মিলিত হন ভজন-কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিতে। এছাড়া শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের তিরোধান দিবস এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষেও বিরাট আয়োজন হয়।
২০১৩ সালের ৩০ জুলাই সৎসঙ্গ বিহারের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়; তাতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন সিটি মেয়র মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম এবং অনুষ্ঠানে তিনি ‘সৎসঙ্গ সরণীর’ ফলক উন্মোচন করেন।
💬 সম্প্রতি সংবাদ ও বিতর্ক ২০২৫ সালের আগস্টে একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ‘সৎসঙ্গ বিহার হাউজিং সোসাইটির’ নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এই আবাসন প্রকল্পে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মের লোকজন আবাসনের সুযোগ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
🚩 কীভাবে পৌঁছাবেন ও দর্শনার্থীর তথ্য যাতায়াত: চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি বা রিক্সা নিয়ে নতুন ব্রিজ বাসস্ট্যান্ড চলে আসুন। সেখান থেকে অনেকগুলো টমটম বা অটোরিক্সা আপনাকে ১০-১৫ টাকায় বিহারের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।
ভিজিটিং সময়: সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত বিহার সাধারণত খোলা থাকে। তবে সকাল ও সন্ধ্যার প্রার্থনার সময়টুকু সবচেয়ে নির্মল এবং আধ্যাত্মিক।
💖 শেষকথা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র চট্টগ্রাম সৎসঙ্গ বিহার কেবল একটি প্রার্থনাস্থল নয়; এটি এক ‘মানুষ গড়ার কারখানা’। যেখানে ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক মূল্যবোধ ও সৎজীবন যাপনের মহামন্ত্র শিক্ষা দেওয়া হয়। পাহাড়ি বাতাস আর নীরবতার মাঝে দাঁড়িয়ে এই আশ্রম প্রতিদিন বলে: ‘এসো, অশান্ত মন নিয়ে শান্তির ঠিকানায়’। যেকোনো শুভ দিনে একবার সৎসঙ্গ বিহারের পথ ধরা হোক, নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়া হোক প্রার্থনা ও প্রসাদের অমৃতধারায়।
আপনার তোলা ছবি আছে?
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।



