Sri Sri Jayanti Maha Shakti Peeth (Bamjangha Mahapeeth)
সিলেটের কানাইঘাটের দুর্গম বাউরভাগ গ্রামে অবস্থিত জয়ন্তী মহা শক্তিপীঠ। ৫১ সতীপীঠের অন্যতম পীঠস্থান এটি, যেখানে দেবী সতীর বাম উরু বা বাম জঙ্ঘা পতিত হয়েছিল। দেবী এখানে জয়ন্তী নামে ও ভৈরব ক্রমদীশ্বর হিসেবে পূজিত হন।
জয়ন্তী মহা শক্তিপীঠ সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরভাগ গ্রামে অবস্থিত। এটি ৫১ সতীপীঠের একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও পবিত্র তীর্থস্থান। পুরাণ মতে, দেবী সতীর দেহ খণ্ডিত হয়ে যে সব স্থানে পতিত হয়েছিল, সেগুলো শক্তিপীঠ নামে পরিচিত। এখানে সতীর বাম জঙ্ঘা বা বাম উরু পতিত হয়েছিল, তাই একে ‘বামজঙ্ঘা মহাপীঠ’ও বলা হয়। এ স্থানে দেবী ‘জয়ন্তী’ নামে পূজিতা হন এবং ভৈরব ‘ক্রমদীশ্বর’ (অপর নাম ক্রমেশ্বর) রূপে পূজিত হন।
মন্দিরের মূল আকর্ষণ একটি চারকোনা কুণ্ড। সেই কুণ্ডের মধ্যে একটি চৌকোণা পাথর রয়েছে, যাকে পীঠস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পাথরের নিচেই দেবীর পবিত্র অংশ অবস্থিত। কাছেই আরেকটি ছোট জলকুণ্ড আছে, যার পানি পূজায় ব্যবহার করা হয়। এখানে একটি প্রাচীন শিবলিঙ্গও রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে মন্দিরটি ‘বাউরভাগ কালী মন্দির’ বা ‘ফালিজুর কালীবাড়ি’ নামেও পরিচিত। বর্তমানে মন্দির চত্বর ও জমি নিয়ে কিছু বিরোধ থাকলেও নিয়মিত পূজা-অর্চনা চলে। সারা বছর ভক্তেরা আসেন, বিশেষ করে শিবরাত্রি ও শিবচতুর্দশী উপলক্ষে বিশাল মেলা ও কীর্তনের আয়োজন হয়। দেবীকে ‘জাগ্রত’ মনে করা হয় – ভক্তদের মানত পূরণ করেন বলে আস্থা রাখেন এলাকাবাসী।
কীভাবে যাবেন: সিলেট শহর থেকে বাস বা সিএনজি যোগে কানাইঘাট বাসস্ট্যান্ড (প্রায় ৫৫ কিমি)। সেখান থেকে স্থানীয় যানে বাউরভাগ গ্রাম – পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা। শেষ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। ভ্রমণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর-মার্চ। থাকার জন্য কানাইঘাটে সীমিত ব্যবস্থা, সিলেটে ফিরে যাওয়া ভালো।
মন্দিরের যেকোনো নতুন ছবি বা গ্যালারি আপডেট করতে পারেন।