বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত সকল হিন্দু মন্দির এর তালিকা ও বিস্তারিত তথ্য।
শ্রী শ্রী বিশ্বনাথ মন্দির (শংকর মঠ ও মিশন)
চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত এই মন্দিরটি ভারতের কাশীধামের আদলে নির্মিত। ২০২১ সালে শংকর মঠের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে এর উদ্বোধন করা হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান, যেখানে প্রতিদিন ভক্তরা পূজা-অর্চনা করতে আসেন।
শ্রী শ্রী পুন্ডরীক ধাম
চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রী শ্রী পুন্ডরীক ধাম বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও পবিত্র বৈষ্ণব তীর্থস্থান। এটি শ্রীল পুন্ডরীক বিদ্যানিধি (শ্রীমতী রাধারানীর পিতা বৃষভানু মহারাজের অবতার)-এর আবির্ভাব স্থান হিসেবে পরিচিত।
কালাগুল শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী গ্রীবাপীঠ
সিলেট, সিলেট
৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই জাগ্রত তীর্থক্ষেত্রটি সিলেটের কালাগুল চা বাগানে অবস্থিত। এখানে সতীর 'গ্রীবা' (গলা) অংশ পতিত হয়েছিল। এই মন্দিরে দেবী মহালক্ষ্মী ও ভৈরবীর পূজা হয়। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে এখানে বিশাল উৎসবের আয়োজন করা হয়।
রাউজান সার্বজনীন শ্রীশ্রী রাসবিহারী ধাম
চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর মুন্সিঘাটায় অবস্থিত রাউজান সার্বজনীন শ্রীশ্রী রাসবিহারী ধাম। এটি একটি জাগ্রত কৃষ্ণ মন্দির। প্রতি বছর কার্তিক-অগ্রহায়ণে পাঁচদিনব্যাপী রাসোৎসব ও মহানামযজ্ঞ হয়। এখানে নিত্য পূজা, গীতা শিক্ষাকেন্দ্র ও মন্দিরভিত্তিক বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ মন্দির
নওগাঁ, রাজশাহী
রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় অবস্থিত শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ মন্দির। এটি প্রায় তিনশো বছর আগে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রাচীন রাম মন্দির। কিংবদন্তি আছে, এক অন্ধ ব্রাহ্মণ বিল থেকে রাম, সীতা ও লক্ষণ বিগ্রহ পান এবং দর্শন পেয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।
শ্রীশ্রী মা ভবানী মন্দির
বগুড়া, রাজশাহী
৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম ভবানীপুর শক্তিপীঠ। সতী মাতার বাম পায়ের নূপুর এখানে পড়েছিল। দেবী 'অপর্ণা' ও ভৈরব 'বামন' রূপে পূজিত হন। করতোয়া নদীর তীরে চার একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই মন্দিরে শাঁখাপুকুর ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
মহেশখালী আদিনাথ মন্দির
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম
মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির কক্সবাজারের একটি প্রাচীন হিন্দু তীর্থস্থান। এটি নাথ সম্প্রদায়ের কেন্দ্র ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রতীক।
সোনারং জোড়া মঠ
মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা
অষ্টাদশ শতাব্দীর নিদর্শন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত।পাশাপাশি অবস্থিত দুটি হিন্দু মন্দির নিয়ে গঠিত, যা "জোড়া মঠ" নামে পরিচিত। পশ্চিমের মন্দিরটি কালী ও পূর্বেরটি শিব দেবতাকে উত্সর্গীকৃত।
লালমাই চণ্ডীমুড়ার চণ্ডী মন্দির৷
কুমিল্লা, চট্টগ্রাম
প্রায় ১৪০০ বছর আগে সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি অতি প্রাচীন কালী মন্দির। এটি চণ্ডীমূড়া মন্দির নামেও পরিচিত ও পাশেই রয়েছে একটি শিব মন্দির।
শ্রী শ্রী নৃসিংহ দেব মন্দির, কালীঘাট, সিলেট
সিলেট, সিলেট
সিলেট শহরের কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন এই মন্দিরটি ভগবান নৃসিংহদেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। অধুনা অবহেলায় জরাজীর্ণ এই মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে প্রায় ধ্বংসের মুখে। তবুও নৃসিংহ চতুর্দশী উপলক্ষে এখানে পূজা-অর্চনা হয়। এটি সিলেটের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রাণের ঠিকানা।
শ্রী শ্রী শচী মাতার অঙ্গন
হবিগঞ্জ, সিলেট
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জয়পুর গ্রামে অবস্থিত শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর ঐতিহাসিক মামা বাড়ি। ১৯৮৩ সালে ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির চত্বরে রয়েছে নিতাই-গৌর ও রাধা-গোবিন্দের বিগ্রহ। প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমায় বার্ষিক উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দেশ-বিদেশের ভক্তদের অন্যতম তীর্থস্থান এটি।
শ্রী শ্রী জয়ন্তী মহা শক্তিপীঠ
সিলেট, সিলেট
সিলেটের কানাইঘাটের দুর্গম বাউরভাগ গ্রামে অবস্থিত জয়ন্তী মহা শক্তিপীঠ। ৫১ সতীপীঠের অন্যতম পীঠস্থান এটি, যেখানে দেবী সতীর বাম উরু বা বাম জঙ্ঘা পতিত হয়েছিল। দেবী এখানে জয়ন্তী নামে ও ভৈরব ক্রমদীশ্বর হিসেবে পূজিত হন।
ঢাকাদক্ষিন শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর বাড়ি
সিলেট, সিলেট
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের মিশ্রপাড়া গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর বাড়ি। আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে গোলাব রায়ের উদ্যোগে নির্মিত এই মন্দির চৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্বপূরুষদের বাসস্থান হিসেবে পরিচিত।
বরাটি শ্রী শ্রী যশোদা মাধব মন্দির
টাঙ্গাইল, ঢাকা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বরাটি গ্রামে নির্মাণাধীন ‘শ্রী শ্রী যশোদা মাধব মন্দির’ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নতুন আশার প্রদীপ। মা যশোদা আর বালক কৃষ্ণের অপূর্ব এক লীলাভূমি হয়ে উঠছে এই মন্দিরচত্বর। গত কয়েক মাসের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে।
ফরিদপুর শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন
ফরিদপুর, ঢাকা
ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় অবস্থিত শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন বিংশ শতাব্দীর এক অসামান্য সমাজ সংস্কারক ও বৈষ্ণব ধর্মগুরু প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দর কর্তৃক ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত。 মতুয়া ও মহানাম সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র এটি।
শ্রীধাম ওড়াকান্দি শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ঠাকুরবাড়ি
গোপালগঞ্জ, ঢাকা
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রাম মতুয়া ধর্মের প্রধান তীর্থ। ১৮১২ সালে হরিচাঁদ ঠাকুর এখানে জন্ম নিয়ে জাতিভেদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। প্রতি বছর চৈত্র মাসে বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা বসে। দূর-দূরান্ত থেকে লাখো ভক্ত কামনা সাগর ও শান্তি সাগরে পুণ্যস্নানে মাতে। জয় গুরু, হরি বোল! 🙏🌺
পুঠিয়া রাজবাড়ী মন্দির কমপ্লেক্স
রাজশাহী, রাজশাহী
পুঠিয়া রাজবাড়ী মন্দির কমপ্লেক্স বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় মন্দিরনগরী। প্রায় ১৩টি প্রাচীন মন্দির, একটি রাজবাড়ি ও বিশাল দীঘি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই কমপ্লেক্স। ১৬শ থেকে ১৯শ শতকের মধ্যে পুঠিয়ার জমিদাররা এই অপূর্ব স্থাপত্যগুলো নির্মাণ করেন।
নিম্বার্ক আশ্রম সিলেট
সিলেট, সিলেট
সিলেটের মির্জাজাঙ্গাল রোডে অবস্থিত নিম্বার্ক আশ্রম। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের ৫৫তম আচার্য শ্রীশ্রী সন্তদাস কাঠিয়াবাবা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। আশ্রমটির গায়ে রয়েছে পাঁচটি রুপালি গম্বুজ আর সূক্ষ্ম কারুকার্য।
শ্রী শ্রী সুনন্দা সুগন্ধা শক্তিপীঠ
বরিশাল, বরিশাল
সুগন্ধা শক্তিপীঠ ৫১ সতীপীঠের একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও শ্রদ্ধার তীর্থ। দেবী সুনন্দা হিসেবে পূজিতা শক্তি ও ভৈরব ত্র্যায়ম্বকেশ্বর এখানে ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। বরিশালের কাছে সুনন্দা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই মন্দিরটি তার পাথরের নির্মাণশৈলী এবং নদীর জলে প্রতিফলিত সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
বাণী তীর্থ গ্রন্থাগার
টাঙ্গাইল, ঢাকা
এটি অত্র এলাকার মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন একটি মন্দির
কাদিপুর শিব বাড়ি মন্দির
মৌলভীবাজার, সিলেট
🌊 কাদিপুর শিববাড়ি, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার 🏛️✨ সিলেটের বুকে কারুকার্যের এক অনন্য নিদর্শন, যেখানে ইতিহাস, শিল্প আর অলৌকিকতার মিলন ঘটেছে। 🌸🌿
শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ
সিলেট, সিলেট
🕉️ শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ, জৈনপুর, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট 🌸🙏 সতী মাতার গ্রীবা (ঘাড়) যেখানে পতিত হয়েছিল—৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই পীঠস্থানই আজ সিলেটের এক টুকরো স্বর্গ 🏛️💖
শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম
মৌলভীবাজার, সিলেট
শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম একটি পবিত্র সনাতন ধর্মীয় তীর্থস্থান, যেখানে ভক্তরা ভগবান বিষ্ণুর চরণকমলের স্মরণে পূজা, প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় অংশগ্রহণ করেন। এটি ভক্তদের শান্তি, ভক্তি ও ধর্মীয় চেতনার এক অনন্য কেন্দ্র।